মূল সংবাদে যান

সর্বশেষ

অর্থ বাণিজ্য

জটিল প্রসূতির জীবন বাঁচাতে সমন্বিত চিকিৎসার গুরুত্ব

প্রসবকালীন ও প্রসব-পরবর্তী জটিলতায় মায়ের জীবন রক্ষায় দ্রুত রোগ নির্ণয়, সময়োপযোগী চিকিৎসা সিদ্ধান্ত এবং বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞদের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল

বিশেষ করে পেরিপার্টাম ডিসেমিনেটেড ইন্ট্রাভাসকুলার কোয়াগুলেশন (ডিআইসি) ও মাল্টি অর্গান ডিসফাংশনের মতো জীবনসংকটাপন্ন পরিস্থিতিতে সমন্বিত চিকিৎসাব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে চট্টগ্রামে বৈজ্ঞানিক সেমিনার আয়োজন করেছে পার্কভিউ হসপিটাল লিমিটেড।

গতকাল শনিবার দুপুর সাড়ে ১টায় হাসপাতালের ১২ তলার কনফারেন্স হলে চবৎরঢ়ধৎঃঁস উওঈ রিঃয গঁষঃর ঙৎমধহ উুংভঁহপঃরড়হ ঋড়ষষড়রিহম খঝঈঝ ু ঞযব গরৎধপঁষড়ঁং জবপড়াবৎু ু অ ঈধংব জবঢ়ড়ৎঃ শীর্ষক এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে গাইনি ও অবস্টেট্রিকস, ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন, হেমাটোলজি, নেফ্রোলজি ও ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা অংশ নেন।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পার্কভিউ হসপিটাল লিমিটেডের গাইনি ও অবস্টেট্রিকস বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. জাহানারা বেগম শিখা। তিনি সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের (এলএসসিএস) পর ডিআইসি ও মাল্টি অর্গান ডিসফাংশনে আক্রান্ত এক জটিল প্রসূতি রোগীর চিকিৎসা এবং সংকটাপন্ন অবস্থা থেকে তাঁর সুস্থ হয়ে ওঠার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। এ ধরনের রোগীর ক্ষেত্রে দ্রুত জটিলতা শনাক্ত করা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু করা এবং বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞদের সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন পার্কভিউ হসপিটাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এ টি এম রেজাউল করিম। সেমিনার সঞ্চালনা করেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নেফ্রোলজি বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. মারিনা আরজুমান্দ।

সেমিনারে বিশেষজ্ঞ প্যানেলে ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের গাইনি ও অবস্টেট্রিকস বিভাগের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. শাহেনা আক্তার, অধ্যাপক ডা. শোয়েলা শাহনাজ ও সাবেক বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ডা. শর্মিলা বড়ুয়া চৌধুরী; ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি চট্টগ্রামের গাইনি ও ল্যাপারোস্কোপিক সার্জন প্রফেসর ডা. আফরোজা চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের গাইনি ও অবস্টেট্রিকস বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ডা. মুসলিনা আক্তার।

এ ছাড়া বিশেষজ্ঞ প্যানেলে ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডা. শাইফুল আজম সাজ্জাদ; পার্কভিউ হাসপাতালের হেমাটোলজি বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. জামাল উদ্দিন তানিন; চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডা. তানজিলা তাবিব চৌধুরী এবং কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডা. আশরাফুল হক।

এ সময় সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ রেজাউল করিম, সহযোগী অধ্যাপক ডা. রফিকুল হাসান, সহকারী অধ্যাপক ডা. তফিকুর নাহার মোনা, ডা. মো. আশেক এলাহী, কনসালট্যান্ট ডা. সাইমা আলমসহ বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসক, হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনারে আলোচকেরা বলেন, পেরিপার্টাম ডিআইসি প্রসবকালীন বা প্রসব-পরবর্তী সময়ে দেখা দেওয়া অত্যন্ত জটিল ও জীবনসংকটাপন্ন একটি অবস্থা। এতে রক্ত জমাট বাঁধার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় এবং অনিয়ন্ত্রিত রক্তক্ষরণের ঝুঁকি তৈরি হয়। এর সঙ্গে একাধিক অঙ্গের কার্যক্ষমতা ব্যাহত হলে রোগীর অবস্থা আরও সংকটাপন্ন হয়ে ওঠে। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত রোগ নির্ণয়, রক্ত ও প্রয়োজনীয় রক্ত উপাদান সরবরাহ, নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং গাইনি, ক্রিটিক্যাল কেয়ার, হেমাটোলজি ও ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিশেষজ্ঞদের সমন্বিত চিকিৎসা অপরিহার্য।

একটি বাস্তব রোগীর চিকিৎসার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বক্তারা বলেন, জটিল প্রসূতি পরিস্থিতিতে প্রতিটি মুহূর্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব হলে রোগীর জীবনহানির আশঙ্কা বাড়তে পারে। তাই চিকিৎসার পাশাপাশি আন্তবিভাগীয় যোগাযোগ ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। এ ধরনের কেস স্টাডিভিত্তিক বৈজ্ঞানিক আলোচনা চিকিৎসকদের বাস্তব অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং জটিল রোগ ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করে।

সভাপতির বক্তব্যে ডা. এ টি এম রেজাউল করিম বলেন, চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের জ্ঞান, প্রযুক্তি এবং অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বিত প্রচেষ্টার বিকল্প নেই। বিশেষ করে মা ও নবজাতকের জীবন রক্ষায় জটিল প্রসূতি পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও আন্তবিভাগীয় সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের বৈজ্ঞানিক সেমিনার চিকিৎসকদের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করে, যা রোগীদের আরও উন্নত ও নিরাপদ চিকিৎসাসেবা প্রদানে সহায়ক হবে। চট্টগ্রামের মানুষের জন্য আধুনিক ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে পার্কভিউ হাসপাতালের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, চিকিৎসকদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, জটিল রোগ ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বৃদ্ধি এবং রোগীদের উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এ আয়োজন। ভবিষ্যতেও চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতিতে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

উল্লেখ্য, পার্কভিউ হসপিটাল লিমিটেড চট্টগ্রামের প্রথম ওঝঙ ১৫১৮৯ অ্যাক্রেডিটেশন সনদপ্রাপ্ত ল্যাব-সুবিধাসম্পন্ন হাসপাতাল বলে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি, অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি মানসম্মত চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছে। সেমিনারের সার্বিক পরিকল্পনা, ব্যবস্থাপনা ও বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দেন হাসপাতালের মার্কেটিং অ্যান্ড ব্র্যান্ড ম্যানেজার জাহেদুল ইসলাম ও তাঁর নেতৃত্বাধীন মার্কেটিং টিম।

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল

আমাদের বাংলা-এ প্রকাশিত সংবাদ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন