এ জন্য শিল্প ও একাডেমিয়ার মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা অত্যাবশ্যক বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পোদ্যোক্তাদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা তৈরি করতে হবে। শিল্পের বাস্তব সমস্যার সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাকে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে গবেষণালব্ধ জ্ঞানকে শিল্পের উৎপাদন ও উদ্ভাবনে কাজে লাগানোর পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের কনফারেন্স হলে দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবোরেশন’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক আবদুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে শিল্পোদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের অতিথি বক্তা হিসেবে আমন্ত্রণ জানাতে হবে। পাঠ্যক্রম প্রণয়ন ও সংশোধনে শিল্পখাতের প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের জন্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানে প্রাতিষ্ঠানিক ইন্টার্নশিপের সুযোগ সৃষ্টি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণালব্ধ ফলাফল বাণিজ্যিকীকরণে যৌথ উদ্যোগ বাড়াতে হবে।
আলোচনায় একাডেমিয়ার পক্ষে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান। শিল্পখাতের পক্ষে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি ও পোর্ট ইউজার্স ফোরামের চেয়ারম্যান আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, শিল্পের চাহিদার আলোকে পাঠ্যক্রম প্রণয়নে শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল কাঠামোগত পরিবর্তন বা প্যারাডাইম শিফট প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সরাসরি পারস্পরিক যোগাযোগ ও কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, একাডেমিয়া ও শিল্পখাতের বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলোর অন্যতম কারণ পারস্পরিক যোগাযোগ, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সমন্বিত উদ্যোগের অভাব। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান জ্ঞান, গবেষণা ও মেধাকে শিল্পখাতের বাস্তব সমস্যা সমাধানে কাজে লাগাতে যৌথভাবে উদ্যোগ নিতে হবে।
উপাচার্য আরও বলেন, নিয়োগদাতারা যে ধরনের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতাসম্পন্ন কর্মী প্রত্যাশা করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে তার প্রতিফলন থাকা প্রয়োজন। পাঠ্যক্রম ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বাস্তব চাহিদার মধ্যে সামঞ্জস্য বা সমন্বয়হীনতা নির্ধারণে শিল্পোদ্যোক্তা ও শিক্ষাবিদদের নিয়মিত আলোচনা ও মতবিনিময় জরুরি।
চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, সামষ্টিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে শিল্পখাতের চাহিদার সঙ্গে শিক্ষাব্যবস্থার সমন্বয় ঘটিয়ে দক্ষ ও কর্মমুখী মানবসম্পদ গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষাকে শুধু সনদ অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; অর্জিত জ্ঞানকে বাস্তব কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগের উপযোগী করতে হবে।
তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের বিশেষায়িত দক্ষতা, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করতে হবে। আগামীর শিক্ষাব্যবস্থাকে অর্থনীতির সহায়ক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। কারণ ভবিষ্যতের অর্থনীতি হবে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও চ্যালেঞ্জিং।
পোর্ট ইউজার্স ফোরামের চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী বলেন, শিল্পখাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে শিল্প ও একাডেমিয়ার কার্যকর অংশীদারত্ব জরুরি। প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে একাডেমিয়ার জ্ঞানকে শিল্পের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে। এতে দক্ষ পেশাজীবী তৈরি, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দেশের শিল্পখাতের সক্ষমতা বাড়বে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমিন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্ঞান ও গবেষণা যেন শিল্পখাতের উন্নয়ন এবং বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজে লাগে, সে জন্য শিল্প ও একাডেমিয়ার মধ্যে সহযোগিতা প্রয়োজন।
উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাব ও গবেষণাগারে ব্যবসায়ীদের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিলের অর্থ ব্যয়ের আহ্বান জানান।
সভায় আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আলী আহমেদ, একেখান গ্রুপের চেয়ারম্যান সালাহউদ্দীন কাসেম খান, চেম্বারের সাবেক পরিচালক ডা. মঈনুল ইসলাম মাহমুদ চৌধুরী ও এম মহিউদ্দিন চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য এস এম ফজলুল হক।
এ সময় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সালেহ জহুর, চেম্বারের সিনিয়র সহসভাপতি মো. আমজাদ হোসেন চৌধুরী, পরিচালক মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরী, কামাল মোস্তফা চৌধুরী, আসাদ ইফতেখার, মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম, সরোয়ার আলম খান ও মো. সেলিম নুর, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ হাসান মিয়াসহ বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।