গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ৯৭ জন। পাসের হার ও জিপিএ-৫—দুই সূচকেই অবনতি হয়েছে বোর্ডটিতে। শনিবার বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড মিলনায়তনে ফলাফল ঘোষণা করেন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী। এ সময় বোর্ডের সচিব মোহাম্মদ জহিরুল হক ও উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আবদুল মান্নান উপস্থিত ছিলেন।
ফলাফল প্রসঙ্গে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের পাসের হার গতবারের কাছাকাছি। এবার অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হয়েছে এবং অভিন্ন পদ্ধতিতে মূল্যায়ন হয়েছে। তাই মূল্যায়ন যথাযথ হয়েছে। এ কারণে এ বছর জিপিএ-৫ অনেক কমেছে। তিনি বলেন, প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা ছিল। শুরুর দিকের কয়েকটি পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ভয়ভীতি কাজ করতে পারে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পরীক্ষা কিছুদিন বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফিরতে সময় লেগেছে। এটিও ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির ২৮৩টি কলেজের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেন। মোট নিবন্ধিত পরীক্ষার্থী ছিলেন ৯৯ হাজার ৮৭৮ জন। পরীক্ষায় অংশ নেন ৯৬ হাজার ৩৩৫ জন। তাঁদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৫০ হাজার ১৬৬ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ৩ হাজার ৫৪৪ জন এবং অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে বহিষ্কৃত হয়েছেন ২৭ জন।
পাসের হারে ছাত্রদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন ছাত্রীরা। ছাত্রদের পাসের হার ৪৭ দশমিক ৬২ শতাংশ, বিপরীতে ছাত্রীদের পাসের হার ৫৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পাওয়া ২ হাজার ৯২৯ জনের মধ্যে ১ হাজার ৫৯৬ জন ছাত্রী এবং ১ হাজার ৩৩৩ জন ছাত্র।
জেলাভিত্তিক ফলাফলে সবচেয়ে ভালো করেছে চট্টগ্রাম মহানগর। নগরে পাসের হার ৬৬ দশমিক ২০ শতাংশ। নগরসহ পুরো চট্টগ্রাম জেলায় এ হার ৫৭ দশমিক ৪২ শতাংশ। তবে নগরের বাইরে চট্টগ্রাম জেলার অন্যান্য এলাকায় পাসের হার ৪৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ। বোর্ডের আওতাধীন অন্য জেলাগুলোর মধ্যে কক্সবাজারে পাসের হার ৪৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ, বান্দরবানে ৪১ দশমিক ৪২, রাঙামাটিতে ৩৩ দশমিক ২৪ এবং খাগড়াছড়িতে ২৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ। বোর্ডের আওতাধীন জেলাগুলোর মধ্যে খাগড়াছড়িতে পাসের হার সবচেয়ে কম।
বিভাগভিত্তিক ফলাফলে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে ভালো করেছেন। এ বিভাগে পাসের হার ৭৪ দশমিক ৪২ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার ৫৪ দশমিক ১৪ শতাংশ। মানবিক বিভাগে এ হার ৩৮ দশমিক ৩১ শতাংশ। জিপিএ-৫ প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে। এ বিভাগে ২ হাজার ১০৭ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১ হাজার ৮৩ জন ছাত্র এবং ১ হাজার ২৪ জন ছাত্রী। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৬৩৭ জন, যার মধ্যে ২২৩ জন ছাত্র ও ৪১৪ জন ছাত্রী। মানবিক বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৮৫ জন। তাঁদের মধ্যে ছাত্র ২৭ জন এবং ছাত্রী ১৫৮ জন।
ফলাফলে দেখা যায়, মানবিক বিভাগে ছাত্রীদের পাসের হার ৪১ দশমিক ৫৪ শতাংশ। ছাত্রদের ক্ষেত্রে এ হার ৩২ দশমিক ৮৯ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগেও ছাত্রীদের পাসের হার ৬০ দশমিক ৬৬ শতাংশ, যেখানে ছাত্রদের পাসের হার ৪৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের গত ১৫ বছরের ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১২ সালে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে সৃজনশীল পদ্ধতি চালুর বছরে পাসের হার ছিল ৭২ দশমিক ২৯ শতাংশ। ২০২০ সালে করোনাকালে বিশেষ মূল্যায়ন পদ্ধতিতে শতভাগ পরীক্ষার্থী পাস করেন। এরপর ২০২১ সালে পাসের হার ছিল ৮৯ দশমিক ৪ শতাংশ। পরবর্তী বছরগুলোতে পাসের হার ধারাবাহিকভাবে কমেছে। ২০২২ সালে ৭৮ দশমিক ৮ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৭৪ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৭০ দশমিক ৩২ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেন। ২০২৫ সালে পাসের হার নেমে আসে ৫২ দশমিক ৫৭ শতাংশে। এবার তা আরও কমে দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশে।
এদিকে বোর্ডের অধীনে ছয়টি কলেজে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছেন। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—বাড়বকুণ্ড হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, কাফকো স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কোয়ান্টাম কসমো কলেজ, রায় ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং লিডসি স্কুল অ্যান্ড কলেজ। অন্যদিকে তিনটি প্রতিষ্ঠানে পাসের হার শূন্য শতাংশ।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয় ২ জুলাই। ৮ আগস্ট পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বন্যার কারণে চট্টগ্রাম বোর্ডের কয়েকটি পরীক্ষা পিছিয়ে যায়। স্থগিত পরীক্ষাগুলো শেষে ৯ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এবার গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। মোট পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী। গত বছর জাতীয় পর্যায়ে পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ।