এ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের রাস্তা পারাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন, ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত করার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন।
প্রশাসক বলেন, সামান্য সচেতনতা ও সতর্কতা অনেক মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে নিজের পাশাপাশি অন্যের নিরাপত্তার প্রতিও সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। সোমবার (২ নভেম্বর) ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির আয়োজনে স্কুল ও কলেজ শিক্ষার্থীদের রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী ও শিক্ষার্থী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নগরের আইয়ুব বিবি সিটি কর্পোরেশন স্কুল অ্যান্ড কলেজ অডিটোরিয়াম প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
ডায়মন্ড সিমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান আজিম আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চসিকের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা, কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রিদুয়ানুল ইসলাম, কর্ণফুলী থানার অফিসার ইনচার্জ নুর মোহাম্মদ, আইয়ুব বিবি সিটি কর্পোরেশন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মাহফুজুল রহমান এবং নিরাপদ সড়ক চাই চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক শফিক আহমেদ সাজীব।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, অনুষ্ঠানস্থলের পাশেই রয়েছে ব্যস্ততম চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক। বিশেষ করে মইজ্জ্যারটেক এলাকায় প্রায়ই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। তাই শিক্ষার্থীদের রাস্তা পারাপারের সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। ডান-বাম ভালোভাবে দেখে এবং যানবাহনের গতিবিধি বুঝে নিরাপদ স্থানে রাস্তা পার হতে হবে। ইসলামে রাস্তার হক আদায়ের কথা বলা হয়েছে। সড়ক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও প্রত্যেক নাগরিকের কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে।
তিনি বলেন, ফুটপাত পথচারীদের চলাচলের জন্য। কেউ ফুটপাত দখল করে মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করলে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হবে। রাস্তায় কোনো প্রতিবন্ধকতা কিংবা ক্ষতিকর বস্তু পড়ে থাকতে দেখলে তা যথাস্থানে সরিয়ে রাখতে হবে অথবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। অন্যের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করে এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন হতে হবে।
শিক্ষার্থীদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রশাসক বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে শিক্ষার্থীরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে প্রতিবাদ করেছিল। সেই সাহস ও দায়িত্ববোধ সমাজের প্রতিটি অন্যায়ের বিরুদ্ধেও কাজে লাগাতে হবে। কোথাও ইভটিজিং, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি কিংবা সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ড দেখলে দায়িত্বশীল ও আইনসম্মতভাবে প্রতিবাদ করতে হবে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া কোনো সামাজিক সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়।
সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে মোবাইল ফোনের অসতর্ক ব্যবহার উল্লেখ করে প্রশাসক বলেন, অনেক শিক্ষার্থী রাস্তা পার হওয়ার সময় মোবাইল ফোনে কথা বলে কিংবা ভিডিও দেখে। আবার অনেকে দলবেঁধে গল্প করতে করতে রাস্তা পার হয়। এতে আশপাশের যানবাহনের প্রতি মনোযোগ থাকে না এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই সড়কে চলাচলের সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে এবং চারপাশের পরিবেশ সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। একই সঙ্গে যানবাহন চালকদেরও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে গাড়ি চালাতে হবে।
নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। মহান আল্লাহ মানুষকে বিবেক, বুদ্ধি ও জ্ঞান দিয়েছেন। তাই প্রতিটি ক্ষেত্রে বিবেক-বুদ্ধি প্রয়োগ করে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। শুধু পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা নয়, বাস্তব জীবনের নৈতিক শিক্ষা, মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়িত্ববোধ অর্জন করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে এবং একটি সুন্দর ও নৈতিক সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে। অনুষ্ঠানে রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।