এর মধ্যে আগামী ২০ অক্টোবর চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জেএম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে আসার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) ও পূজা উদযাপন কমিটিগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
শনিবার সকালে জেএম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে এক ব্রিফিংয়ে এসআরবি-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে নির্ধারিত নিরাপত্তা প্রটোকল অনুসরণ করে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) নির্দেশনা ও সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, চট্টগ্রাম মহানগরীতে প্রায় ২ হাজার ৬০০টি পূজামণ্ডপ রয়েছে। এসব মণ্ডপের নিরাপত্তায় র্যাবের পাশাপাশি পুলিশ, জেলা প্রশাসন ও বিভাগীয় প্রশাসন কাজ করছে। মণ্ডপগুলোতে নিয়মিত পরিদর্শন ও মোবাইল টহলের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি থাকবে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বিশেষ স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে কেউ গুজব ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা করলে প্রকৃত তথ্য তুলে ধরে তা মোকাবিলা করা হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চট্টগ্রাম সফরকে বৈচিত্র্েযর মধ্যে ঐক্যের বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার বাস্তবায়নের বার্তা হিসেবে দেখছেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। শনিবার দুপুরে জেএম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চান, যেখানে ধর্ম, বর্ণ ও সম্প্রদায় নির্বিশেষে ‘রেইনবো সিটি’ গড়া হবে। যেখানে সবাই সমান মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে বসবাস করবেন। মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নগরী। ধর্মীয় পরিচয় যার যার, কিন্তু নগরী সবার। তাই সব ধর্মের মানুষ যাতে নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে নিজ নিজ উৎসব পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে।
মেয়র বলেন, ‘রেইনবো সিটি’ গড়ার অর্থ এমন নগরী তৈরি করা, যেখানে প্রত্যেকে নিরাপদে চলাচল করতে পারবেন, ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারবেন এবং সুস্থ পরিবেশে বসবাস করবেন। এ লক্ষ্য অর্জনে পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশ সংরক্ষণ, জনস্বাস্থ্য ও নাগরিক অবকাঠামোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
পূজামণ্ডপের শৃঙ্খলা, দর্শনার্থীদের যাতায়াত ও জনসাধারণের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে চসিকের পক্ষ থেকে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। আন্দরকিল্লা ও দেওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন এলাকার পূজামণ্ডপে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠে রয়েছেন। মণ্ডপের আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং চলাচলে প্রতিবন্ধকতা দূর করতে পরিচ্ছন্নতা বিভাগও কাজ করছে।
মেয়র জানান, নগরীর ১৬টি থানার আওতাধীন ২৯৪টি পূজামণ্ডপে ১৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জেএম সেন হল পূজামণ্ডপে পাঁচ লাখ, জামালখানের কুসুমকুমারী পূজামণ্ডপে ১৫ লাখ এবং চসিকের চারটি সেবক কলোনির হরিজন সম্প্রদায়ের জন্য দুই লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে অনুদানের পরিমাণ ৩৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা। পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে মেয়র ৫০০ সনাতনী নারীর হাতে উপহারসামগ্রী তুলে দেন। এ সময় চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীম বলেছেন, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে জন্য প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও পূজা উদযাপন কমিটিগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। শনিবার সকালে জেএম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যেন আনন্দের সঙ্গে উৎসব উদযাপন করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রীর সফর সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও সৌহার্দ্যের বার্তাকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান বলেন, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়ার প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য বাস্তবায়নে তাঁর চট্টগ্রাম সফর গুরুত্বপূর্ণ। সফর সফল করতে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন। প্রধানমন্ত্রীর সফর ও দুর্গাপূজাকে ঘিরে নেওয়া নিরাপত্তাব্যবস্থার লক্ষ্য একদিকে উৎসবের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা, অন্যদিকে সব সম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করা।
উল্লেখ্য, ‘রেইনবো নেশন’ বা বৈচিত্র্েযর মধ্যে ঐক্যের ধারণা বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকারেরও অংশ। ২০২৫ সালের ৩০ আগস্ট ময়মনসিংহসহ ১২ জেলার ৩৪টি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছিলেন, বাংলাদেশ শুধু বাঙালির নয়, বৈধভাবে বসবাসকারী সব জাতিগোষ্ঠীর। পাহাড় ও সমতলে সব জাতিগোষ্ঠীর অধিকার সংরক্ষণে বিএনপি বদ্ধপরিকর বলেও জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী একেকটি রং, আর সব রঙের সমন্বয়েই ‘রেইনবো নেশন’। বৈচিত্র্েযর মধ্যেই ঐক্য প্রতিষ্ঠা এ ধারণার মূল লক্ষ্য। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সরকারি চাকরিতে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীসহ সকলের প্রবেশ সহজ করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। এ ছাড়া পাহাড় ও সমতলের উন্নয়নে বিএনপির ৩১ দফা রূপরেখার কথা তুলে ধরেন।