এই জয়ে আইসিসি ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের চার নম্বরে থাকা পাকিস্তানকে হারিয়ে এক ধাপ এগিয়ে নবম স্থানে ওঠা নিশ্চিত করেছে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের দল।
মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রোববার টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে তোলে ২৯০ রান। জবাবে পাকিস্তান ৫০ ওভারে ২৭৯ রানে থেমে যায়।
বাংলাদেশের বড় সংগ্রহের ভিত্তি গড়ে দেন ওপেনার তানজিদ হাসান। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি করে তিনি ১০৭ বলে ১০৭ রান করেন। তার ইনিংসে ছিল আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের ছাপ। সাইফ হাসানের সঙ্গে উদ্বোধনী জুটিতে ১৮ ওভারে ১০৫ রান যোগ করেন তিনি। সাইফ ৫৫ বলে ৩৬ রান করেন।
দ্বিতীয় উইকেটে নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে তানজিদ আরও ৫৩ রান যোগ করেন। শান্ত করেন ৩৪ বলে ২৭ রান। পরে লিটন কুমার দাস ও তাওহিদ হৃদয়ের ৬৮ রানের জুটি বাংলাদেশের স্কোরকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যায়। লিটন ৫১ বলে ৪১ রান করেন, আর হৃদয় ৪৪ বলে অপরাজিত ৪৮ রান করেন।
পাকিস্তানের হয়ে আবরার আহমেদ, শাহিন শাহ আফ্রিদি ও হারিস রউফ উইকেট নেন।
২৯১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে পাকিস্তান। তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানার দারুণ বোলিংয়ে প্রথম তিন ওভারেই ৩ উইকেট হারায় সফরকারীরা। তাসকিনের বাউন্সিং ডেলিভারিতে সাজঘরে ফেরেন সাহিবজাদা ফারহান, আরেক দারুণ বলে বোল্ড হন মোহাম্মদ রিজওয়ান। নাহিদ রানাও দ্রুত একটি উইকেট তুলে নেন।
তবে মাঝের দিকে দলকে টেনে তোলেন সালমান আলি আগা। দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করে তিনি ম্যাচে পাকিস্তানকে ফিরিয়ে আনেন। ৮৯ বলে শতরান পূর্ণ করা সালমান শেষ পর্যন্ত তাসকিন আহমেদের স্লোয়ারে মিড উইকেটে ধরা পড়ে বিদায় নেন।
শেষ দিকে শাহিন শাহ আফ্রিদির ঝড়ো ব্যাটিং ম্যাচে আবার উত্তেজনা ছড়ায়। ৪৯তম ওভারে মোস্তাফিজুর রহমানকে দুটি ছক্কা মারেন তিনি। শেষ ওভারে পাকিস্তানের দরকার ছিল ১৪ রান।
স্নায়ুচাপের সেই ওভারটি করতে আসেন লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন। তিনি দারুণ নিয়ন্ত্রণে বোলিং করে পাকিস্তানকে লক্ষ্য থেকে দূরে রাখেন। শেষ বলে স্টাম্পিংয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের জয়।
বল হাতে তাসকিন আহমেদ ছিলেন বাংলাদেশের সেরা। নতুন বলে আগুনঝরা স্পেলের পাশাপাশি মাঝের ও শেষ ভাগে গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তিনি।
ম্যাচসেরা হন তানজিদ হাসান। সিরিজসেরা নির্বাচিত হন তানজিদ হাসান ও নাহিদ রানা।
