চাক্তাই থেকে কালুরঘাট পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটারজুড়ে সড়ক ও বাঁধের দুপাশে নির্মাণাধীন এই পার্ক নগরবাসীর জন্য হয়ে উঠতে পারে নতুন অবকাশযাপন কেন্দ্র। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। এতে থাকবে ওয়াকওয়ে, সাইকেল লেন, গ্যালারি, কিডস জোন, বেঞ্চ, ফুটওভার ব্রিজ এবং নদীমুখী দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা।
সিডিএর চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নুরুল করিম বলেন, “কালুরঘাট সেতু থেকে চাক্তাই খাল পর্যন্ত নদীতীরবর্তী সাড়ে চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নগরবাসীর জন্য একটি উন্মুক্ত বিনোদনের স্থান তৈরি করছি। আমরা চাই, মানুষ যেন পতেঙ্গার মতো এখানেও পরিবার নিয়ে সময় কাটাতে পারে।”
সিডিএর সাবেক প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি শাহীনুল ইসলাম খান বলেন, নগরীর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা বাকলিয়া ও এর আশপাশে কোনো উল্লেখযোগ্য বিনোদন কেন্দ্র নেই। তাই এই পার্ক এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে। এতে রাস্তাঘেঁষা ঢালে গড়ে তোলা হবে ছোট আকারের দ্বিতল ফুডজোন। নিচে থাকবে টয়লেট সুবিধা, আর উপরের অংশ হবে খোলা ছাউনি দিয়ে আচ্ছাদিত বসার জায়গা, যাতে দর্শনার্থীরা নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন। নদীমুখী ঢালে গ্যালারির মতো বসার স্থান থাকবে। থাকবে বিনা, ওয়াকওয়ে, সাইকেল লেন, নিরাপদ পার্কিং এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার জন্য নিয়মিত বিন বসানো হবে।
চট্টগ্রাম নগরের প্রায় ৭০ লাখ বাসিন্দার জন্য উন্মুক্ত বিনোদনের স্থান বলতে এতদিন ছিল মূলত পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত। সিডিএ’র এই নতুন প্রকল্প রিভারভিউ পার্ক নগরীর পূর্বাঞ্চলের বিশাল জনগোষ্ঠীর বিনোদন-চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখবে।
প্রকল্প সূত্র জানায়, চাক্তাই-কালুরঘাট সড়ক ও বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন পায় ২০১৭ সালের ২৫ এপ্রিল। কাজ শুরু হয় ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে। প্রথমে ব্যয় ধরা হয়েছিল ২ হাজার ৩১০ কোটি টাকা, যা পরে বাড়িয়ে করা হয় ২ হাজার ৭৭৯ কোটি টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করছে স্পেকট্রা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড।
এই প্রকল্প শুধু একটি বিনোদন কেন্দ্র নয়, বরং একটি সামাজিক ও পরিবেশগত পরিকল্পনার অংশ—এমনটাই বলছেন সংশ্লিষ্টরা। নগরের জ্যামিতিক সম্প্রসারণের ভেতর মানুষের মনস্তাত্ত্বিক স্বস্তি ও স্বাস্থ্যগত চাহিদা পূরণে এই পার্ক ভূমিকা রাখবে বলেই প্রত্যাশা।
