মূল সংবাদে যান
খেলা ও বিনোদন

চট্টগ্রামে বর্ণাঢ্য কেন্দ্রীয় রথযাত্রা, সম্প্রীতির বন্ধনে মিলল হাজারো ভক্ত

বৃষ্টি উপেক্ষা করে ধর্মীয় উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রায় তিনশ বছরের ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্রীয় রথযাত্রা| নগরের নন্দনকানন তুলসীধাম থেকে শুরু হওয়া এ রথপরিক্রমায় চট্টগ্রামসহ পার্বত্যাঞ্চল, কক্সবাজার ও বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা হাজারো ভক্ত অংশ নেন|

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল
চট্টগ্রামে বর্ণাঢ্য কেন্দ্রীয় রথযাত্রা, সম্প্রীতির বন্ধনে মিলল হাজারো ভক্ত

ঢোল-বাদ্য, শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি ও নামসংকীর্তনের মধ্য দিয়ে জগন্নাথ, সুভদ্রা ও বলভদ্রের রথ নগরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে|

বৃহস্পতিবার বিকেলে কেন্দ্রীয় রথযাত্রা উদযাপন কমিটির আয়োজনে রথপরিক্রমার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, সনাতন ধর্মাবল¤^ীদের রথযাত্রা এখন সব সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির মেলবন্ধন সৃষ্টি করেছে|

1784205493060.jpg

তুলসীধাম একটি ঐতিহ্যবাহী তীর্থস্থান এবং এখানকার তিনশ বছরের কেন্দ্রীয় রথযাত্রা আজ সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে| প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী দিনের বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন|

ঋষিধাম অধিপতি ও তুলসীধামের মোহন্ত শ্রীমৎ দেবদীপানন্দ পুরী মহারাজের পৌরহিত্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন| তিনি বলেন, নন্দনকাননের ঐতিহাসিক রথের পুকুরপাড়ের ঐতিহ্য রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে| রথের পুকুরপাড় দখল করে কোনো প্রভাবশালী মহলকে স্থাপনা নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না বলেও তিনি ঘোষণা দেন|

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান বলেন, একটি গোষ্ঠী দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালালেও বাংলাদেশের সব ধর্ম-বর্ণের মানুষ নিরাপদ| সংবিধান অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব| রথযাত্রার উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার শ্রী হরিশ কুমার|

শ্রী হরিশ কুমার বলেন, রথযাত্রা ভগবানের বিশেষ কৃপার প্রতীক| এ সময় ভগবান মন্দির থেকে বের হয়ে সাধারণ মানুষের কাছে আসেন বলেই একে সর্বজনীন করুণার উৎসব বলা হয়| অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি দীপক কুমার পালিত, কেন্দ্রীয় রথযাত্রা উদযাপন কমিটির সভাপতি হিরন্ময় ধর, সাধারণ সম্পাদক বিধান ধরসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা|

বক্তারা বলেন, তুলসীধামের রথযাত্রার ইতিহাস প্রায় তিনশ বছরের| অষ্টাদশ শতাব্দী থেকে শুরু হওয়া এ আয়োজন কালের পরিক্রমায় কেন্দ্রীয় রথযাত্রায় রূপ নিয়েছে| রথযাত্রার দিন সরকারি ছুটি ঘোষণার দাবিও জানান তারা| পরে মোহন্ত দেবদীপানন্দ পুরী মহারাজের নেতৃত্বে অতিথিরা রথের দড়ি টেনে আনুষ্ঠানিকভাবে রথপরিক্রমার উদ্বোধন করেন| এর আগে মঙ্গল শঙ্খ, উলুধ্বনি ও ঢোল-বাদ্যের মধ্য দিয়ে জগন্নাথ, সুভদ্রা ও বলভদ্রকে রথে আরোহন করানো হয়|

তুলসীধামের কেন্দ্রীয় রথের সঙ্গে নগরের বিভিন্ন মঠ ও মন্দিরের রথও শোভাযাত্রায় অংশ নেয়| শ্রীকৃষ্ণায়ন, মনোহরখালী, মাইজপাড়া, শাহাজীপাড়া, ফিরিঙ্গীবাজার, এনায়েতবাজার, টাইগারপাস, গঙ্গাবাড়ী, পূর্ব মাদারবাড়ী ও সদরঘাট জেলেপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকার রথ একযোগে মহাশোভাযাত্রায় অংশ নেয়| এছাড়া কক্সবাজার, চকরিয়া, রামু, টেকনাফ, মহেশখালী, উখিয়া, ফটিকছড়ি, খাগড়াছড়ি, বাঁশখালী, মীরসরাই ও সীতাকুণ্ড থেকে আসা ভক্তরাও শোভাযাত্রায় যোগ দেন|

সিএমপির নির্ধারিত রুট অনুযায়ী রথযাত্রা নন্দনকানন থেকে নিউমার্কেট, লালদীঘি, আন্দরকিল্লা, চেরাগী পাহাড়, প্রেসক্লাব ও লাভলেইন হয়ে পুনরায় তুলসীধামে ফিরে আসে| পথে পথে ভক্তরা নামসংকীর্তন, জয়ধ্বনি ও প্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে উৎসবে অংশ নেন| রথযাত্রা উপলক্ষে তুলসীধামে দিনব্যাপী নামযজ্ঞ, জগন্নাথ-সুভদ্রা-বলভদ্রের পূজা, ধর্মীয় সঙ্গীতানুষ্ঠান, চিকিৎসা ক্যাম্প এবং মহাপ্রসাদ বিতরণের আয়োজন করা হয়|

সম্পর্কিত বিষয়

  • রথযাত্রা

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল

আমাদের বাংলা-এ প্রকাশিত সংবাদ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন