কিন্তু সম্প্রতি নতুন এক নাম, নতুন এক হুজুগ বদলে দিচ্ছে এখানকার জীবনযাত্রা। প্রধানসড়ক থেকে মাত্র সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে চাম্বল ইউনিয়নের পূর্বাঞ্চলীয় পাহাড়ি এলাকা—স্থানীয়দের কাছে পরিচিত আম্বাঘোনা, ছিবাজিল্লা ঝিরি, গৌরাণিতা ঝিরি ও বন্বিতার ঝিরি—এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘বাঁশখালীর মিনি কাশ্মীর’।
ইউটিউবার, টিকটক ব্যবহারকারী ও অনলাইন কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের প্রচারণায় এলাকা রাতারাতি ভাইরাল। প্রতিদিন শত শত তরুণ-তরুণী ভিড় জমাচ্ছেন দুর্গম পাহাড়ে। কিন্তু আনন্দের এই ঢেউ আঘাত হানছে এলাকার প্রান্তিক কৃষকদের জীবনে।
ক্ষেতে পা, মাঠে হাতি—দুই দিকের ধাক্কা দুর্গম পাহাড়ি পথে যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত সরু মাটির রাস্তার দুই পাশে সারি সারি সবজি ক্ষেত, কলা বাগান ও পানের বরজ। কিন্তু প্রতিদিনের পর্যটক আনাগোনায় জমি পদদলিত হয়ে নষ্ট হচ্ছে ফসল। মানুষের ভিড়ে আতঙ্কিত হয়ে বন্যহাতির দলও নেমে আসছে লোকালয়ে, ফসল তছনছ করছে।
স্থানীয় কৃষক জসিম উদ্দিনের আক্ষেপ,
“আমরা পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষ। ছনখোলা ও পাহাড়ের পাদদেশে চাষাবাদ করেই হাজার পরিবার চলে। ‘মিনি কাশ্মীর’ নামে প্রচারের পর লোকজনের বেপরোয়া আসা-যাওয়ায় নষ্ট হচ্ছে জমি, সবজি ক্ষেত। অনৈতিক আচরণ আর অপ্রীতিকর ঘটনাও বাড়ছে। এ হুজুগ বন্ধ হোক।”
প্রকৃতির ভারসাম্যে আঘাত মন্তব্য করে চুনতি অভয়ারণ্য রেঞ্জের জলদি বিট কর্মকর্তা আনিছুজ্জামান শেখ বলেন,“এখানকার পাহাড়ে হাতির দলসহ অনেক বন্যপ্রাণী বাস করে। মানুষের অবাধ বিচরণে তাদের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। ছনখোলাকে ‘মিনি কাশ্মীর’ বলা অযৌক্তিক। সবাইকে নিরুৎসাহিত করছি।”
বিকল্প বিনোদনের আহ্বান জানিয়ে সচেতন মহল বলছে, প্রকৃতি উপভোগের অধিকার সবার আছে, কিন্তু তা যেন কৃষকের অন্ন কেড়ে না নেয় বা বন্যপ্রাণীর আবাস ধ্বংস না করে। সাজেক, নীলগিরি, বান্দরবান, রাঙামাটির মতো বৈধ ও সুরক্ষিত পর্যটনকেন্দ্র ভ্রমণপিপাসুদের গন্তব্য হতে পারে।
প্রকৃতি শুধু চোখের আনন্দের জন্য নয়, জীবনের ধারকও বটে। বাঁশখালীর এই পাহাড়-খাল-ঝিরি যেন বিনোদনের হুজুগে নয়, সংরক্ষণের প্রজ্ঞায় বেঁচে থাকে—এই সচেতনতা এখনই দরকার।
