মার্কিন পত্রিকা ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, বিমানের ককপিট কথোপকথনের অডিও বিশ্লেষণে পাওয়া গেছে যে ক্যাপ্টেন সুমিত সাবারওয়াল নিজেই ইঞ্জিনের জ্বালানি সরবরাহের সুইচ বন্ধ করেছিলেন। এতে উড্ডয়নের মাত্র ৩২ সেকেন্ড পরই বিমানটি বিধ্বস্ত হয় এবং ২৬০ জন আরোহীর সবাই নিহত হন। ‘ককপিটের এক সেকেন্ড’ বদলে দিল ২৬০টি জীবন ?
কী জানা গেছে ককপিট রেকর্ডিং থেকে?
বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার উড্ডয়নের পর ফার্স্ট অফিসার ক্লাইভ কুন্ডার ক্যাপ্টেনকে প্রশ্ন করেন, কেন তিনি জ্বালানির কাট-অফ স্যুইচ বন্ধ করেছেন। অডিও রেকর্ডিংয়ে ফার্স্ট অফিসারের উদ্বেগ এবং ক্যাপ্টেনের অস্বাভাবিক শান্তভাব লক্ষ করা যায়। দুজন পাইলটের যথাক্রমে ১৫,৬৩৮ ও ৩,৪০৩ ঘণ্টার ফ্লাইট অভিজ্ঞতা ছিল।
প্রাথমিক তদন্তে কী উঠে এসেছে?
ভারতের এয়ারক্রাপ্ট এক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (এএআইবি) জানায়, উড্ডয়নের কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই দুই ইঞ্জিনের জ্বালানি সুইচ এক সেকেন্ডের ব্যবধানে বন্ধ হয়ে যায়। কীভাবে সুইচগুলো ‘রান’ (চালু) থেকে ‘কাট-অফ’ (বন্ধ) অবস্থায় গেল, সে বিষয়ে কিছু নিশ্চিতভাবে বলা হয়নি। বিমানের সিস্টেম ইঞ্জিনগুলো আবার চালু করতে চেষ্টা করেছিল, কিন্তু সময় ছিল খুবই সীমিত।
বোয়িং এবং বোয়িং এন্ড ফেডারেল এভিয়েশন এডমিনিষ্ট্রেশন (এফএএ)-এর প্রতিক্রিয়ায় অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পর্যালোচনা শুরু করেছে। তারা জানিয়েছে, বোয়িং উড়োজাহাজে ব্যবহৃত ফুয়েল কাট- অফ সুইচ নিরাপদ এবং এর ডিজাইনজনিত কোনো ত্রুটি নেই।
কীভাবে ঘটল এমন মানবিক ভুল?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন সিদ্ধান্ত ককপিটে নেয়া হলে তা হয় আত্মঘাতী উদ্ভট আচরণ, নয়তো মানসিক বিভ্রান্তির বহিঃপ্রকাশ। বিমানের ফুয়েল কাট- অফ সুইচ সাধারণত অবতরণের পর বা জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহার করা হয়। উড্ডয়নের সময় এ ধরনের সুইচ টগল করা প্রটোকলবহির্ভূত এবং বিপজ্জনক।
মূল্যায়ন ও এখন প্রশ্ন উঠছে—
ক্যাপ্টেন ইচ্ছাকৃতভাবে কি সুইচ বন্ধ করেছিলেন? এটি প্রযুক্তিগত ত্রুটি, ভুল বোঝাবুঝি, না কি একধরনের স্যাবোটেজ বা আত্মঘাতী পদক্ষেপ? ২৬০ জনের মৃত্যুর দায় কার?
কারণ এই ঘটনাটি শুধু এয়ার ইন্ডিয়ার নয়, বিশ্ব বিমান নিরাপত্তার জন্যই অ্যালার্মিং। যদি প্রমাণ হয়, পাইলটের একটি সিদ্ধান্তই পুরো ফ্লাইট ধ্বংস করেছে, তবে ককপিটে মনস্তাত্ত্বিক মূল্যায়ন ও প্রশিক্ষণের বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
