কারণ চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে চ্যাটজিপিটির চিকিৎসা-সংক্রান্ত পরামর্শ অনুসরণ করে প্রাণঘাতী শারীরিক জটিলতায় পড়েন ওই ব্যক্তি। বুধবার (২৫ জুলাই) ক্যালিফোর্নিয়ার সান ফ্রান্সিসকো সুপিরিয়র কোর্টে তিনি মামলাটি করেন।
মামলার অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০২৪ সাল থেকে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা নিয়ে নিয়মিত চ্যাটজিপিটির সঙ্গে পরামর্শ করতেন উইন্টার্স। ২০২৫ সালে তার মাথা ঘোরা, রক্তচাপের অস্বাভাবিক ওঠানামা এবং পরে কুঁচকিতে ব্যথার মতো গুরুতর উপসর্গ দেখা দিলেও চ্যাটজিপিটি তাকে হাসপাতালে যাওয়ার বদলে বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
জিপিটি-৪ও মডেলভিত্তিক চ্যাটজিপিটির চ্যাটবট তার গুরুতর শারীরিক উপসর্গগুলো বারবার ভুলভাবে মূল্যায়ন করে এবং তাকে চিকিৎসা নিতে নিরুৎসাহিত করেছিল। এর ফলে তিনি প্রাণঘাতী বাইলেটারাল পালমোনারি এম্বোলিজমে (উভয় ফুসফুসের ধমনীতে রক্ত জমাট বাঁধা) আক্রান্ত হন।
বাদীপক্ষের দাবি, শুরুতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথা বললেও পরে চ্যাটজিপিটি নিজেই রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত নির্দেশনা দিতে শুরু করে। এমনকি উইন্টার্সের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি ইঙ্গিত করে তাকে আশ্বস্ত করারও চেষ্টা করা হয়। চ্যাটজিপিটি আমাকে প্রায় মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছিল।" তিনি আরও দাবি করেন, "আমি চ্যাটজিপিটিকে নিজের থেকেও বেশি ভরসা করতাম। মামলায় ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে অবহেলা, ত্রুটিপূর্ণ মডেল নকশা এবং লাইসেন্স ছাড়া চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবীদের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি ব্যবহারকারীর নিরাপত্তার চেয়ে অ্যালগরিদমের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর সম্পৃক্ততা (এনগেজমেন্ট) বাড়ানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছে এবং স্বাস্থ্যবিষয়ক যথাযথ সুরক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। তারা ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি চ্যাটজিপিটির স্বাস্থ্য-পরামর্শ দেওয়ার সুবিধার নিরাপত্তা মূল্যায়ন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তা স্থগিত রাখার আবেদনও জানিয়েছেন।
অন্যদিকে ওপেনএআইয়ের মুখপাত্র ড্রু পুসাতেরি বলেন, চ্যাটজিপিটি কোনও চিকিৎসক নয়। রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা বা চিকিৎসকের বিকল্প হিসেবে এটি কখনোই ব্যবহার করা উচিত নয়। স্থ্যবিষয়ক তথ্য সহজে বুঝতে এবং চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনার জন্য প্রাথমিক প্রস্তুতি নিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একটি সহায়ক মাধ্যম হতে পারে। চিকিৎসা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের সম্পূর্ণ দায় একটি চ্যাটবটের ওপর চাপানো যথার্থ নয়। এ ধরনের মামলা স্বাস্থ্যসেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য ইতিবাচক ব্যবহারকেও বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
