দেশটির ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশনস টেকনোলজি (এনআইসিটি) সম্প্রতি প্রতি সেকেন্ডে ১.০২ পেটাবিট (১০২০,০০০ গিগাবিট) ডেটা স্থানান্তরের নতুন রেকর্ড গড়েছে—যা এখন পর্যন্ত বিশ্বের সর্বোচ্চ।
এই নজিরবিহীন গতিতে গোটা স্টিম লাইব্রেরির গেম, হাজার হাজার সিনেমা বা কোটি কোটি গান ডাউনলোড করা সম্ভব মাত্র কয়েক সেকেন্ডে। ইকোনমিক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এই সাফল্য শুধু প্রযুক্তিগত উৎকর্ষই নয়, বরং ভবিষ্যতের যোগাযোগব্যবস্থার জন্য এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
এই সাফল্য এসেছে প্রচলিত ফাইবার অপটিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে। তবে পার্থক্য হয়েছে প্রযুক্তির অভ্যন্তরীণ কাঠামোয়। সাধারণ একক কোরযুক্ত ফাইবারের বদলে এনআইসিটি চার কোরবিশিষ্ট ফাইবার অপটিক তার ব্যবহার করেছে এবং ৫০টিরও বেশি আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য একসঙ্গে স্থানান্তরের জন্য সক্রিয় রেখেছে। এর ফলে প্রতি সেকেন্ডে এক পেটাবিটেরও বেশি গতি অর্জন সম্ভব হয়েছে।
আরও বিস্ময়ের বিষয় হলো—এই গতির স্থায়িত্ব ৫১.৭ কিলোমিটার পর্যন্ত সফলভাবে ধরে রাখা গেছে। এটি প্রমাণ করে, প্রযুক্তিটি পরীক্ষাগারে সীমাবদ্ধ নয়, বাস্তব পরিবেশেও কার্যকর।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই গতির ইন্টারনেট আগামী দিনে গ্লোবাল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বয়ংক্রিয় যানবাহন, রিয়েল-টাইম অনুবাদ সেবা এবং ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন আনবে। একসঙ্গে এক কোটির বেশি ৮কে ভিডিও স্ট্রিমিং, এক সেকেন্ডে লক্ষ বছরের সমান গান ডাউনলোড কিংবা উইকিপিডিয়ার পূর্ণ ব্যাকআপ বারংবার নেওয়ার মতো কল্পনাও বাস্তব হতে চলেছে।
তবে এখনই এই গতি ঘরে পাওয়া যাবে না। গ্রাহক পর্যায়ে এখনো গিগাবিট বা সর্বোচ্চ টেরাবিট পর্যায়ের ইন্টারনেট পৌঁছাতে পারেনি। তবে গবেষকেরা বলছেন, এই প্রযুক্তি জাতীয় ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক, সাবমেরিন কেবল ও ভবিষ্যতের ৬জি নেটওয়ার্ক স্থাপনায় মৌলিক ভিত্তি গড়ে দেবে।
বিশ্লেষকদের মতে, জাপানের এই কীর্তি নতুন এক প্রতিযোগিতার দ্বার উন্মোচন করল—যেখানে ভবিষ্যতের অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ নির্ধারিত হবে ‘গতি’ দিয়ে।
