ঢাকার সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ও রিকশাচালকদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে বুয়েটের নকশায় তৈরি নতুন ব্যাটারিচালিত রিকশা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। প্রাথমিকভাবে ঢাকার তিনটি এলাকায়—পল্টন, ধানমন্ডি ও উত্তরা—এই রিকশা চালুর অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
প্রশিক্ষণ নিয়েই নামতে হবে সড়কে
রিকশাচালকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ শেষে দেওয়া হবে লাইসেন্স, তারপর অনুমোদিত রিকশা কিনে নির্ধারিত রুটে চালাতে পারবেন তাঁরা। প্রথম ধাপে ৩০০ প্রশিক্ষক তৈরির লক্ষ্যে ২০০ জনের তিন দিনের প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। অধিকাংশ প্রশিক্ষণার্থীই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
রিকশাচালকদের জন্য শ্রদ্ধা ও স্বীকৃতি
স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানে রিকশাচালকদের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপই এই উদ্যোগ। যাঁরা এই বৈধ রিকশা চালাবেন, তাঁদের নির্ধারিত রাস্তায় পূর্ণ অধিকার থাকবে—হয়রানি, ঘুষ বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা থাকবে না।”
তিনি আরও জানান, “আমাদের লক্ষ্য রিকশাচালকদের পেশাকে মর্যাদা দেওয়া এবং শহরের চলাচল ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনা।”
পুরনো রিকশার ভবিষ্যৎ কী?
প্রশ্নের জবাবে ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বলেন, “পর্যায়ক্রমে অনুমোদনহীন রিকশা সরিয়ে ফেলা হবে। তবে কোনো জোরজবরদস্তি করা হবে না—নতুন রিকশা এলেই পুরনোগুলো স্বাভাবিকভাবে উঠিয়ে যাবে।”
তিনি জানান, নতুন অনুমোদিত রিকশার মূল্য হবে দুই লাখ টাকার নিচে, এবং আগস্টের প্রথম সপ্তাহ থেকে তা চালু করার প্রস্তুতি চলছে।
চার্জিং পয়েন্ট ও নিরাপত্তা
প্রশাসকের মতে, অনুমোদিত চার্জিং পয়েন্ট স্থাপনের বিষয়ে কাজ চলছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষা বিষয়ক বিশেষ সহকারী অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আবদুল হাফিজ বলেন, “সারা দেশে অসংখ্য ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করছে যেগুলোর নকশা, প্রশিক্ষণ বা নিরাপত্তা নেই। এর ফলে দুর্ঘটনা বাড়ছে। প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে এসব সমস্যার সমাধান হবে।”
সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়
প্রশিক্ষক তৈরির এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের রোড সেফটি প্রোগ্রাম। প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে ৫৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদী, প্রধান উপদেষ্টার তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব, দক্ষিণ সিটির প্রশাসক শাহজাহান মিয়া, বুয়েট প্রতিনিধি ও দুই সিটির বিভিন্ন কর্মকর্তা।
