মূল সংবাদে যান
জাতীয়

প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর সফরে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার কর্মসূচিতে যা থাকছে

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর আজ প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম সফরে আসছেন তারেক রহমান।

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল
প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর সফরে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার কর্মসূচিতে যা থাকছে

একদিনের সফরে রবিবার কক্সবাজারের মহেশখালী ও চট্টগ্রামের বাঁশখালী, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীতে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি। সন্ধ্যায় নগরীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে চট্টগ্রাম বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের তিন উপজেলা—বাঁশখালী, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা, সড়ক ব্যবস্থাপনা, যানজট নিয়ন্ত্রণ, চিকিৎসা ও জরুরি সেবাসহ বিভিন্ন বিষয়ে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. জিয়াউদ্দিন জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করে নিতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

চূড়ান্ত সফরসূচি অনুযায়ী, সকাল ৯টায় মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে পৌঁছে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প ও মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) কার্যক্রম পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর দুপুর ১২টায় হেলিকপ্টারে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া সমুদ্রসৈকতসংলগ্ন এলাকায় যাবেন। সেখানে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ত্রাণ বিতরণ এবং ১০০ গৃহহারা পরিবারের হাতে নতুন বাড়ির চাবি তুলে দেবেন।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে বাঁশখালীতে প্রশাসন ও দলীয় পর্যায়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানস্থলে মঞ্চ ও প্যান্ডেল নির্মাণের কাজ শেষ পর্যায়ে। বন্যায় বিধ্বস্ত ও নতুন ঘর নির্মাণের সামর্থ্য নেই—এমন পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা থেকে ১০০ পরিবারকে নির্বাচন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রতীকীভাবে স্বামীহারা এক নারীর হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দিয়ে ১০০ পরিবারের মধ্যে ঘর হস্তান্তর কার্যক্রম শুরু করবেন প্রধানমন্ত্রী। সফর ঘিরে বাঁশখালী বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকেও ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

বাঁশখালী থেকে দুপুর ১টার দিকে ফটিকছড়িতে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে নাজিরহাট পৌরসভার বাবুনগর এলাকার আল জামিয়াতুল ইসলামীয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এরপর সংগঠনটির কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের প্রায় ৫০ জন জ্যেষ্ঠ নেতার সঙ্গে মতবিনিময় করার কথা রয়েছে।

হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে এ সফরকে অরাজনৈতিক সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সংগঠনটির পক্ষ থেকে ফটিকছড়িতে ৫০০ শয্যার বিশেষায়িত হাসপাতাল, নাজিরহাট হয়ে রামগড় পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণ এবং চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার দাবিগুলো প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরার প্রস্তুতি রয়েছে।

ফটিকছড়ি থেকে সড়কপথে হাটহাজারীতে আসবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় গিয়ে হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা আমির মরহুম আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করবেন। পরে জেলা পরিষদের ডাকবাংলোয় সংক্ষিপ্ত বিরতির পর হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

ওই অনুষ্ঠানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩০ পরিবারকে ঘর নির্মাণের সহায়তা হিসেবে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে দেওয়ার কথা রয়েছে। একই অনুষ্ঠানে ১৫ জন প্রতিবন্ধীকে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কর্মসূচিও রয়েছে।

সফরের শেষ পর্যায়ে সন্ধ্যায় নগরীর পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লুতে চট্টগ্রাম বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। পরে রাত ৯টা ২০ মিনিটে তাঁর ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল

আমাদের বাংলা-এ প্রকাশিত সংবাদ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন