মূল সংবাদে যান
অর্থ বাণিজ্য

প্রশাসনের গাফিলতিতে বেবিচকের ১৬ স্টেশনে নতুন পে-স্কেলে বেতন, ব্যতিক্রম চট্টগ্রাম

প্রশাসন শাখার দায়িত্বে অবহেলায় নতুন পে-স্কেলের বেতন নির্ধারণের প্রয়োজনীয় নথিপত্র বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদর দপ্তরে যথাসময়ে না পৌঁছানোয় অক্টোবর মাসের বেতন আটকে গেছে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৩১৯ কর্মকর্তা-কর্মচারীর।

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল

১ নভেম্বর বর্ধিত বেতন পরিশোধের নির্দেশনা থাকলেও বেবিচক ১৭টি স্টেশনের মধ্যে ১৬টিতে বেতন দেওয়া হয়েছে। ব্যতিক্রম শুধু শাহ আমানত বিমানবন্দর।

এ ঘটনায় চট্টগ্রামে ক্ষোভ জানিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রশাসনিক গাফিলতির তদন্ত, দায়ীদের শাস্তি এবং দ্রুত বেতন পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন। গতকাল সোমবার (২ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ নুর হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। তাঁরা বেতন আটকে যাওয়ার কারণ জানতে চান এবং প্রশাসনিক দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগের তদন্ত দাবি করেন।

শাহ আমানত বিমানবন্দর কর্মচারী সংঘের সাধারণ সম্পাদক মো. হাকিম সরকার বলেন, ‘প্রতি মাসের ১ তারিখ আমাদের বেতন হয়। ১ তারিখ শুক্র বা শনিবার হলে পরদিন বেতন দেওয়া হয়। এবার নির্ধারিত সময়ে বেতন না হওয়ায় আমরা পরিচালক স্যারকে বিষয়টি জানাতে গিয়েছিলাম। আমাদের দাবি, এ ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে এবং যত দ্রুত সম্ভব বেতন দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। পরিচালক স্যার আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন।

বেতন আটকে যাওয়ার কারণে কর্মচারীদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সংকটের কথাও তুলে ধরেন হাকিম সরকার। তিনি বলেন, ‘আমাদের অনেকে ডেঙ্গুসহ নানা রোগে চিকিৎসাধীন। একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী স্ট্রোক করে হাসপাতালে আছেন। বেতন থেকে সবাই মিলে তাঁকে সহযোগিতা করার কথা ছিল। কিন্তু তিনি নিজেই বেতন পাননি। এই হলো অবস্থা।’

কর্মচারীদের অভিযোগ, সরকার ঘোষিত নতুন নবম পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় ফিক্সেশন কার্যক্রম বেবিচকের অধীন অন্যান্য বিমানবন্দরে সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু শাহ আমানত বিমানবন্দরে প্রশাসন শাখার দায়িত্ব অবহেলার কারণে প্রয়োজনীয় নথি যথাসময়ে ঢাকায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

জানা গেছে, পে-ফিক্সেশনের প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস ও ৩১৯ কর্মকর্তা-কর্মচারীর সার্ভিস বুক বিমানবন্দরের হিসাব শাখা গত ১৮ অক্টোবর প্রশাসন শাখায় হস্তান্তর করে। তবে সেগুলো যথাসময়ে বেবিচকের সদর দপ্তরে পাঠানো হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে নির্ধারিত সময়ে বর্ধিত বেতন পরিশোধের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে বিমানবন্দরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা কায়সার মোহাইমেন বলেন, ‘কর্মচারীদের ৩১৯টি ফাইল সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৩০০টি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বাকি ১৯টি নথি দু-এক দিনের মধ্যে অনুমোদন দেওয়া হবে। সবাই একসঙ্গে বেতন পাবেন।’

অন্য স্টেশনগুলোতে দ্রুত বেতন পরিশোধের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘অন্যান্য বিমানবন্দরে লোকবল কম। এ কারণে তারা দ্রুত অনুমোদন নিতে পেরেছে এবং বেতন পেয়েছে। কিন্তু আমাদের এখানে লোকবল বেশি। সবার ফাইল অনুমোদন হয়নি। এ কারণে পরিচালক বলেছেন, সবার অনুমোদন হলে একসঙ্গে বেতন ছাড় করতে।’

তবে কর্মচারীদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় নথি যথাসময়ে পাঠানো হলে বেতন আটকে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতো না। প্রশাসনিক দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ নুর হোসেন বলেন, ‘নতুন স্কেলের জন্য কিছু আউটস্টেশনের স্টাফের সার্ভিস বুক ও ডকুমেন্ট দেরিতে আসায় জমা দিতে দেরি হয়েছে। এ অবস্থায় কেউ নতুন স্কেলে, কেউ আগের স্কেলে বেতন পাবেন—এটি আমরা চাইনি। আশা করছি, সবাই একসঙ্গে বেতন পাবেন। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে’।

সম্পর্কিত বিষয়

  • বেবিচক

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল

আমাদের বাংলা-এ প্রকাশিত সংবাদ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন