বুধবার (২০ মে) রাজ্যের প্রশাসনিক সদর দপ্তর নবান্ন–এ মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ ঘোষণা দেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ভারত সরকার ২০২৫ সালের ১৪ মে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে একটি নির্দেশিকা পাঠিয়েছে। ওই নির্দেশিকায় অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের সরাসরি বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)-এর হাতে তুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, আগের রাজ্য সরকার এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
তিনি বলেন, “আজ থেকে আমরা এই আইন কার্যকর করলাম। সিএএর আওতাভুক্ত ব্যক্তিরা, যারা ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভারতে এসেছেন, তাদের পুলিশ হেনস্তা করতে পারবে না।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সিএএর আওতায় না থাকা ব্যক্তিদের “অবৈধ অনুপ্রবেশকারী” হিসেবে গণ্য করা হবে। তাদের গ্রেপ্তার করে বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হবে এবং পরে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মাধ্যমে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি জানান, এ বিষয়ে রাজ্যের পুলিশ মহাপরিচালক ও স্বরাষ্ট্রসচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সীমান্তবর্তী থানাগুলোতে তাৎক্ষণিকভাবে আইন কার্যকর করার কথাও বলেন তিনি।
ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) ২০১৯ সালের ১১ ডিসেম্বর দেশটির সংসদে পাস হয় এবং পরদিন রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের মাধ্যমে আইনে পরিণত হয়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে বা নিপীড়নের আশঙ্কায় ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ভারতে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষদের শরণার্থী মর্যাদা দেওয়ার বিধান রাখা হয়।
তবে মুসলিম সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে এই সুবিধা প্রযোজ্য নয়। এ নিয়ে আইনটি ভারতে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
এদিকে বুধবার সকালে উত্তরবঙ্গ সফর শেষে নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন শুভেন্দু অধিকারী। এ সময় বিএসএফ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
