মূল সংবাদে যান
অর্থ বাণিজ্য

দক্ষ কর্মী রপ্তানিই অর্থনৈতিক সুফল নিশ্চিত সম্ভব: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধসহ বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেও গত সাত মাসে প্রায় ৪ লাখ ৩৪ হাজার বাংলাদেশি কর্মী বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও দেশের শ্রমবাজার ধরে রাখার পাশাপাশি আগামী দিনগুলোতে আরও ভালো ফল পাওয়ার প্রত্যাশা করছে সরকার।

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল

তবে শুধু কর্মী পাঠানোর সংখ্যা বাড়িয়ে নয়, দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির মাধ্যমেই দেশের প্রকৃত অর্থনৈতিক সুফল নিশ্চিত করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসী কর্মীদের লাগেজ পরিবহনে ট্রলি কার্যক্রমের উদ্বোধন এবং প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, “দক্ষ কর্মী পাঠাতে না পারলে শুধু সংখ্যা বাড়িয়ে লাখ লাখ কর্মী বিদেশে পাঠিয়ে দেশের কোনো প্রকৃত লাভ হবে না।” বিদেশে যাওয়ার আগে কর্মীদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান ধরে রাখতে দক্ষতা উন্নয়নের বিকল্প নেই।

শাহ আমানত বিমানবন্দরে প্রবাসী কর্মীদের সুযোগ-সুবিধা পরিদর্শনের সময় মন্ত্রী সরাসরি বিদেশগামী যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁদের চাহিদা, ভোগান্তি ও বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন তিনি। ফ্লাইট বিলম্ব কিংবা সময়সূচি বিপর্যয়ের কারণে বিদেশগামী কর্মীদের দীর্ঘ সময় বিমানবন্দরে অবস্থান করতে হয়।

চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দর শহর থেকে কিছুটা দূরে হওয়ায় এ সময় থাকা-খাওয়ার সংকটও তৈরি হয়। এ সমস্যা সমাধানে বিমানবন্দরের পাশে রেস্টহাউস নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানান মন্ত্রী। তাঁর মতে, ফ্লাইট বিলম্ব বা অন্য কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে প্রবাসী যাত্রীরা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে অবস্থান করতে পারেন, সে ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

বিদেশগামী কর্মীদের স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন মন্ত্রী। শাহ আমানত বিমানবন্দরে প্রবাসী কর্মীদের জন্য দ্রুত একটি ইমার্জেন্সি চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, প্রবাসী কর্মীদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার প্রস্তুত রয়েছে। চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপনের জন্য স্থান নির্বাচনের কাজও শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পরে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধসহ নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও গত সাত মাসে প্রায় ৪ লাখ ৩৪ হাজার কর্মী বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন। তিনি বলেন, প্রতিকূল বৈশ্বিক পরিস্থিতির মধ্যেও শ্রমবাজার ধরে রাখার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

আগামী দিনগুলোতে বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে আরও ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। তবে শ্রমবাজারে সংখ্যাগত সম্প্রসারণের পাশাপাশি কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধির ওপরই গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। কারণ দক্ষতা কম থাকলে বিপুলসংখ্যক কর্মী বিদেশে গেলেও উচ্চ আয়ের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

এদিকে বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের আইনি সহায়তা আরও জোরদার করার প্রস্তাব দিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। অনুষ্ঠানে তিনি প্রবাসীদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একটি প্রস্তাব মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। মন্ত্রী প্রস্তাবটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন এবং প্রবাসীদের আইনি সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।

চট্টগ্রাম থেকে বিপুলসংখ্যক কর্মী প্রতিবছর মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থানের জন্য যাত্রা করেন। ফলে শাহ আমানত বিমানবন্দরে প্রবাসীদের সেবা ব্যবস্থার উন্নয়ন, দ্রুত চিকিৎসা, লাগেজ পরিবহন এবং দীর্ঘ সময় অপেক্ষার ক্ষেত্রে বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা স্থানীয় শ্রমবাজারের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

অনুষ্ঠানে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদারসহ মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এবং বিমানবন্দর পরিচালনা কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল

আমাদের বাংলা-এ প্রকাশিত সংবাদ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন