মূল সংবাদে যান
জাতীয়

ইতিহাস ভুলে গেলে জাতির অস্তিত্ব টিকে না: নিতাই রায় চৌধুরী

যে জাতি তার ইতিহাস ভুলে যায়, সে জাতির অস্তিত্ব টিকে থাকতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি বলেন, স্বাধীনতার এই গৌরবময় ইতিহাস সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি। তাই মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও বীরত্বগাথা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে।

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল
ইতিহাস ভুলে গেলে জাতির অস্তিত্ব টিকে না: নিতাই রায় চৌধুরী

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক কালুরঘাট স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র পরিদর্শনকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। পরিদর্শনকালে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিদুর রহমান, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়াসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র এবং জিয়াউর রহমান-এর স্মৃতিকে সংরক্ষণ ও উন্নয়নের লক্ষ্যে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র ও জিয়ার স্মৃতি জাদুঘরকে সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় আনার বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে।

অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও বীরত্বগাথা তুলে ধরতে সংশ্লিষ্ট উদ্যোগ জোরদার করা হবে। তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটি সর্বজনীন জনযুদ্ধ, যার মাধ্যমে বাঙালি জাতি স্বাধীনতা অর্জন করে। এই স্বাধীনতার পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস—ভাষা আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান ও ঐতিহাসিক নির্বাচনের ধারাবাহিকতা।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আরও বলেন, দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাসে ১৯৪৮ সালের ভাষা আন্দোলনের সূচনা, ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনে শহীদদের আত্মত্যাগ, ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচন। এসব আন্দোলন সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় বাঙালি জাতি স্বাধীনতার চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছে।

মন্ত্রী বলেন, ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনীর আক্রমণের পর দেশে যখন অনিশ্চয়তা বিরাজ করছিল, তখন কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এ ঘোষণার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে নতুন গতি সঞ্চার হয় এবং জনগণের মধ্যে সাহস ও উদ্দীপনা ফিরে আসে।

তিনি জানান, এখানে একটি আধুনিক স্মৃতি জাদুঘর স্থাপন, জিয়াউর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণ এবং ঐতিহাসিক সম্প্রচারে ব্যবহৃত সরঞ্জাম সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। দর্শনার্থীদের জন্য এমন একটি সমন্বিত পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা প্রথমে বেতার কেন্দ্র পরিদর্শন করে পরে সংশ্লিষ্ট জাদুঘরে যেতে পারেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ড জাতির জন্য বেদনাদায়ক অধ্যায় হলেও মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান বাঙালির গৌরবের অংশ। এই দুই ঐতিহাসিক দিক যথাযথভাবে উপস্থাপন ও সংরক্ষণের জন্য মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

সম্পর্কিত বিষয়

  • সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী
  • নিতাই রায় চৌধুরী
  • কালুরঘাট স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল

আমাদের বাংলা-এ প্রকাশিত সংবাদ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন