এ সময় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ ২৩ জন হাজতি আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার অপর ১৬ জন আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন।
গতকাল সোমবার সকালে চট্টগ্রাম দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাহিদুল হক এ আদেশ দেন। কারাগারে থাকা ২২ আসামির পক্ষে পরবর্তী ধার্য তারিখে লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হবে। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২ ফেব্রুয়ারি।
অভিযুক্ত আসামিরা হলেন- চন্দন দাশ মেথর, রিপন দাশ, রাজীব ভট্টাচার্য্য, শুভ কান্তি দাশ, আমান দাশ, বুঞ্জা, রনব, বিধান, বিকাশ, রমিত প্রকাশ দাস, রুমিত দাস, নয়ন দাশ, ওমকার দাশ, বিশাল, লালা দাশ, সামীর, সোহেল দাশ, শিব কুমার, বিগলাল, পরাশ, গণেশ, ওম দাস, পপি, অজয়, দেবী চরণ, দেব, জয়, লালা মেথর, দুর্লভ দাস, সুমিত দাশ, সনু দাস, সকু দাস, ভাজন, আশিক, শাহিত, শিবা দাস ও দ্বীপ দাস।
বাদীপক্ষের আইনজীবী ও সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বলেন, ‘এটি একটি সংবেদনশীল ও চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা, যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। মামলার এজাহার, চার্জশিট, সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি, জব্দকৃত আলামত, সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, ফরেনসিক রিপোর্ট এবং আসামিদের ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পর্যালোচনা করেই আদালত অভিযোগ গঠন করেছেন।’
এপিপি জানান, আসামি চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী এই হত্যাকাণ্ডের সহযোগিতাকারী ও প্রত্যক্ষ উস্কানিদাতা। তার নির্দেশ ও প্ররোচনায় অন্যান্য আসামিরা সংঘবদ্ধভাবে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেন। তাই চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর বিরুদ্ধে হত্যা ও প্ররোচনার (৩০২/১০৯) ধারায় এবং অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৪৭-এর অবৈধ সংঘবদ্ধ সহিংসতা, ৪৪৮-এর অনধিকার প্রবেশ, ৪৪৯-এর গুরুতর অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে অনধিকার প্রবেশ, ৩০২-এর হত্যা এবং ৩৪-এর যৌথ অভিপ্রায়কে ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়। চার্জশিটভুক্ত ৩৯ জন আসামির মধ্যে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের পক্ষে একজন আইনজীবী এবং পলাতক ১৬ আসামির পক্ষে পৃথক একজন আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালত ভবন এলাকায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সময় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ নিহত হন। এ ঘটনায় তার বাবা জামাল উদ্দিন কোতোয়ালী থানায় হত্যা মামলা করেন। পরবর্তী তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়ায় আসামির সংখ্যা বাড়িয়ে মোট ৩৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
