মূল সংবাদে যান
অপরাধ

হাদির মৃত্যু ঘিরে উত্তাল চট্টগ্রামে হামলা-অগ্নিসংযোগ, কূটনৈতিক এলাকায় সংঘর্ষ

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম নগরী কার্যত অচল হয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে গতকাল শুক্রবার সকাল পর্যন্ত টানা বিক্ষোভ, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও সংঘর্ষে নগরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক।

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল
হাদির মৃত্যু ঘিরে উত্তাল চট্টগ্রামে হামলা-অগ্নিসংযোগ, কূটনৈতিক এলাকায় সংঘর্ষ

সহিংসতা ঠেকাতে পুলিশ, র‌্যাব ও সেনাবাহিনী একযোগে মাঠে নামে। গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে বসানো হয় চেকপোস্ট, শুরু হয় ব্যাপক তল্লাশি।

বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত ৯টা ৪০ মিনিটে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় ক্ষোভ বিস্ফোরিত হয়। রাত ১০টার দিকে দুই নম্বর গেট, বিপ্লব উদ্যানসহ একাধিক স্থানে হাজারো ছাত্র-জনতা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে এবং হাদির হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে নগর।

বিক্ষোভ একপর্যায়ে সহিংস রূপ নেয়। উত্তেজিত জনতা নগরীর চশমা হিল এলাকায় পলাতক সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের বাসভবনে হামলা চালায়। সেখানে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, খুলশী, চশমা হিল, দুই নম্বর গেট, হালিশহর ও কাজীর দেউড়ি এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। দোকানপাট ও বিপণিবিতান বন্ধ রয়েছে। ছুটির দিন হলেও রাস্তায় গণপরিবহন ও সাধারণ মানুষের চলাচল অন্যান্য দিনের তুলনায় অনেক কম। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক কাজ করছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসিব আজিজ জানান, এসব ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রাতভর অভিযান চালিয়ে ১২ জনকে আটক করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে।

এছাড়া বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর খুলশী এলাকায় ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার ডা. রাজীব রঞ্জনের বাসভবনের সামনে কয়েক হাজার মানুষ অবস্থান নেয়। তারা রাত ১টা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে রাখে। রাত দেড়টার দিকে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ বাসভবনের দিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও হামলার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে সিএমপি কমিশনার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং সহকারী হাই কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিরাপত্তার আশ্বাস দেন।

শুক্রবার সকালে নগরীর খুলশী, চশমা হিল, দুই নম্বর গেট, হালিশহর ও কাজীর দেউড়ি এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করে। দোকানপাট ও বিপণিবিতান বন্ধ থাকে। ছুটির দিন হলেও গণপরিবহন ও মানুষের চলাচল ছিল সীমিত। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বের হয়নি।

পুলিশ জানায়, নগরজুড়ে পুলিশ, ডিবি, র‌্যাবের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর টহল দল মোতায়েন রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বসানো হয়েছে একাধিক চেকপোস্ট।

শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে ‘জুলাই ঐক্য’-এর উদ্যোগে চট্টগ্রামে কফিন মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। আন্দরকিল্লা শাহী মসজিদ এলাকা থেকে শুরু হয়ে মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জামালখান মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা কফিনের আদলে তৈরি প্রতীকী লাল-সবুজ পতাকা বহন করেন। তারা ‘হাদির হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই’, ‘দিল্লি না ঢাকা—ঢাকা, ঢাকা’, ‘আমরা সবাই হাদি হবো’সহ নানা স্লোগান দেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলনের সাহসী কণ্ঠস্বর শরিফ ওসমান হাদিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। দ্রুত খুনিদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

উল্লেখ্য, গুলিবিদ্ধ হয়ে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে শরিফ ওসমান হাদি মারা যান (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন....)। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিন ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে তিনি মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। আওয়ামী লীগ ও ভারতবিরোধী বক্তব্যের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে তিনি আলোচনায় ছিলেন। হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামে উদ্ভূত পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে থাকলেও নগরবাসীর মধ্যে এখনো উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

সম্পর্কিত বিষয়

  • হাদি
  • চট্টগ্রাম

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল

আমাদের বাংলা-এ প্রকাশিত সংবাদ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন