মূল সংবাদে যান
শিক্ষা ও চিকিৎসা

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে চাকসু নির্বাচন

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ৩৫ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু), হল ও হোস্টেল সংসদ নির্বাচন। ১৫ অক্টোবর সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে চাকসু নির্বাচন

প্রায় ২৭ হাজার শিক্ষার্থী ৫টি অনুষদ ভবনের ৬০টি কক্ষে স্থাপিত প্রায় ৭০০ বুথে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ভোটগ্রহণ হবে প্রকৌশল, কলা ও মানববিদ্যা, বিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান এবং ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ভবনে।

ভোটার তালিকায় শিক্ষার্থীদের ছবি যুক্ত থাকছে যাতে পরিচয় নিশ্চিত করা যায়। নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ইসলামী ছাত্রশিবির, বাম ছাত্রসংগঠন ও স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ১৩টি প্যানেল। ইশ্তেহারে শিক্ষার্থীদের জন্য নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তারা।

CU pic.jpg

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এখন যেন এক মিলনমেলা। নির্বাচনকে ঘিরে পুরো ক্যাম্পাসে বইছে উৎসবের হাওয়া। হ্যান্ডবিল, লিফলেট, গান, গম্ভীরা, নাটক আর স্লোগানে মুখর প্রতিটি চত্বর—চায়ের দোকান থেকে শুরু করে শাটল ট্রেনের বগি, সব জায়গায়ই চলছে নির্বাচনী আলোচনা। এরমধ্যে কেউ কেউ গান গেয়ে, জামাই সেজে, ঐতিহ্যবাহী ‘গম্ভীরা’ গানের সুরে সুরে শিক্ষার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছেন। শিক্ষার্থীরাও প্রার্থীদের এসব অভিনব পদ্ধতির প্রচারে সাড়া দিয়েছেন। প্রার্থীর সঙ্গে ছবি তুলেছেন।

প্রচারণা মুঠোফোনে ধারণ করেছেন। এছাড়া অনলাইনেও সরব আছেন প্রার্থীরা। তাঁরা এখনো নিয়মিত ফেসবুকে ছবি ও ভিডিও আপলোড করছেন। কেউ কেউ শর্টফিল্ম বানিয়ে আলোচনায় এসেছেন। কেউ বানিয়েছেন নাটক। এখন অপেক্ষা শুধু ১৫ অক্টোবরের, যেদিন শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিনিধি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একটি ঐতিহাসিক ঘটনার অংশ হবেন।

ভোটের আগে শেষ মুহূর্তের প্রচারে ব্যস্ত প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা। কেউ প্রচার চালাচ্ছেন চায়ের কাপ বা পুতুলের আদলে তৈরি লিফলেট দিয়ে, কেউ আবার বিতরণ করছেন শাটল ট্রেনের সময়সূচি বা রিকশা ভাড়ার তালিকা সম্বলিত লিফলেট। শহীদ আবদুর রব হলের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদপ্রার্থী মো. রিফাতুল ইসলাম দুই নম্বর ব্যালটের সঙ্গে মিল রেখে দুই টাকার নোটের আদলে প্রচারপত্র তৈরি করে নজর কাড়ছেন শিক্ষার্থীদের।

‘সার্বভৌম শিক্ষার্থী ঐক্য’ প্যানেল থেকে ছাত্রীকল্যাণ সম্পাদক পদে নির্বাচন করছেন চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী উম্মুল আখয়ার। তিনি জানান, নিজস্বতা বজায় রেখে তিনি প্রচার চালাচ্ছেন। ভোটারদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাচ্ছেন। ভোটে অংশ নেওয়া তাঁর কাছে অন্য রকম অভিজ্ঞতা এনে দিচ্ছে।

ভিপি প্রার্থী ইব্রাহিম হোসেন রনি (শিবির সমর্থিত) বলেন, “শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন ও প্রত্যাশার ভিত্তিতে ইশতেহার তৈরি করেছি, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রচার চালিয়ে যাব।”

‘বৈচিত্র্েযর ঐক্য’ প্যানেলের সহসভাপতি (ভিপি) প্রার্থী ধ্রুব বড়ুয়া বলেন, ‘আর কিছু ঘণ্টা পর প্রচার শেষ হবে। এই শেষ মুহূর্তে সময়ের সঙ্গে দৌড়াচ্ছি। শিক্ষার্থীদের কাছে যাচ্ছি। নিজেদের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছি। শিক্ষার্থীরাও আগ্রহী হয়ে প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছেন। সব মিলিয়ে বিরাজ করছে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ।’

ছাত্রদল মনোনীত জিএস প্রার্থী মো. শাফায়েত হোসেন বলেন, “শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার রক্ষায় আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, সেই বার্তা নিয়েই পৌঁছানোর চেষ্টা করছি প্রতিটি ভোটারের কাছে।”

তবে উৎসবমুখর পরিবেশে ছায়া ফেলেছে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ। ছাত্রদলের বিরুদ্ধে মাইক ব্যবহার করে প্রচারের অভিযোগ তুলেছেন ছাত্রশিবিরের এক প্রার্থী। এ বিষয়ে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে বলে জানিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতেই তারা নিয়েছে কঠোর পদক্ষেপ।

বহিরাগত নিয়ন্ত্রণে সার্বক্ষণিক পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য। নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি ভোটকক্ষে থাকবে সিসি ক্যামেরা, যা কেন্দ্রে বাইরে থেকেও দেখা যাবে। এমনকি বিদ্যুৎ বিভ্রাট হলেও রেকর্ডিং সংরক্ষিত থাকবে।

ডাকসু, জাকসু নির্বাচনের পর এবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে সবচেয়ে বড় চমক হচ্ছে ভোট গণনায় প্রযুক্তির ব্যবহার। ব্যালট পেপারে ভোট হলেও গণনা করা হবে ওএমআর (অপটিক্যাল মার্ক রিডার) পদ্ধতিতে, যাতে দ্রুত এবং নির্ভুল ফলাফল ঘোষণা সম্ভব হয়। এতে ভোটাররা ব্যালটে বৃত্ত ভরাট করে নিজেদের ভোট প্রদান করবেন। গতকাল সোমবার দুপুরে এ তথ্য দেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব এ কে এম আরিফুল হক সিদ্দিকী।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মনির উদ্দিন বলেন, “অ্যানালগ পদ্ধতিতে গণনা করলে অনেক সময় লাগবে, তাই আমরা ওএমআর পদ্ধতি গ্রহণ করেছি। নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি ভোট কক্ষে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে এবং কেন্দ্রের বাইরে তার দৃশ্য প্রদর্শনের ব্যবস্থা থাকবে। এমনকি বিদ্যুৎ বিভ্রাট হলেও ভিডিও রেকর্ড সংরক্ষিত থাকবে।”

চবির প্রক্টর অধ্যাপক হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪টি প্রবেশপথের মধ্যে সাতটি বন্ধ থাকবে নির্বাচনের দিন। শিক্ষার্থীরা পরিচয়পত্র দেখিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন। তবে বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকাতে ২৪টি পয়েন্টে নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার জানিয়েছেন, “জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের পর শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছি। তারই ধারাবাহিকতায় এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এখন শুধু অপেক্ষা ১৫ অক্টোবরের, যেদিন শিক্ষার্থীরা বেছে নেবেন তাদের আগামী দিনের নেতৃত্ব।”

উল্লেখ্য, সর্বশেষ চাকসু নির্বাচন হয় ১৯৯০ সালে। ৩৫ বছর পর আগামীকাল ১৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চাকসু নির্বাচন। এরই মধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কর্তৃপক্ষ। এদিকে ১৮ দিন পর গতকাল সোমবার মধ্যরাতে শেষ হয়েছে চাকসু নির্বাচনী প্রচারণা। শেষ সময়ের প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। নির্বাচনের দিন চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে ক্যাম্পাস জুড়ে।

সম্পর্কিত বিষয়

  • চাকসু নির্বাচন
  • চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল

আমাদের বাংলা-এ প্রকাশিত সংবাদ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন