সোমবার (১১ আগস্ট) দুপুরে নগর কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী (দপ্তর) আরিফ মঈনুদ্দিন স্বাক্ষরিত চিঠি তাঁর হাতে পৌঁছে যায়।
নোটিশে বলা হয়েছে, ১০ আগস্ট দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ ও ভাইরাল ভিডিওর মাধ্যমে দলের নজরে আসে যে নিজাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কেন তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না—তা লিখিতভাবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরের প্রধান যুগ্ম সমন্বয়ক মীর আরশাদুল হকের কাছে জানাতে বলা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দরে বেসরকারি অপারেটর সাইফ পাওয়ারটেকের বিরুদ্ধে একটি আন্দোলন শুরু হয়। সেই আন্দোলন থামাতে আর্থিক লেনদেনের দরকষাকষি করতে শোনা যায় নিজাম উদ্দিনকে। কথোপকথনে তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী রিফাতকে বলা হয়, সংশ্লিষ্টরা ‘পাঁচ টাকা’ (যার অর্থ পাঁচ লাখ টাকা) দিতে রাজি। জবাবে নিজাম উদ্দিন বলেন, “দেখো ১০ টাকা নিতে পারো কিনা। ভিডিওতে রিফাতকে আরও বলতে শোনা যায়, এত টাকা তারা দেবে না। তখন নিজাম উদ্দিন আশ্বস্ত করেন, “আন্দোলন বন্ধ হয়ে যাবে, তুমি টাকার ব্যবস্থা করো।”
অভিযোগের বিষয়ে রবিবার রাতে নিজাম উদ্দিন বলেন, “এটি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। ভিডিওটি পুরনো এবং সুপার এডিটেড। একটি পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।” সোমবারও তিনি প্রথম আলোকে জানান, শোকজ চিঠি পেয়েছেন এবং “যথাযথ ব্যাখ্যা পাঠিয়ে দেব।”
এটি প্রথম নয়। গত ৫ জুলাই এক নারী চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনারকে চিঠি দিয়ে অভিযোগ করেন, দুই কোটি টাকা চাঁদা না দেওয়ায় তাঁর স্বামীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছেন নিজাম উদ্দিন। তখন তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চট্টগ্রাম নগর শাখার সদস্যসচিব ছিলেন। অভিযোগের পর তাঁর পদ স্থগিত করা হলেও পরে পুনর্বহাল করা হয়। দলের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, শোকজ নোটিশের জবাবের ভিত্তিতে নিজাম উদ্দিনের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।