পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামে মোট ১৫১টি মামলার মধ্যে ৬৯টি নগর ও জেলার ৯টি থানায় দায়ের হয়েছে। বাকিগুলো আদালতে করা নালিশি (সিআর) মামলা। এসব মামলায় নাম উল্লেখ থাকা আসামির সংখ্যা ১৩ হাজার ৪৫০ এবং অজ্ঞাত আসামি অন্তত ৩০ হাজার।
থানায় দায়ের হওয়া ৬৯টি মামলায় মোট আসামি ২১ হাজার ৯০৬ জন, যার মধ্যে ১৫টি হত্যা মামলা রয়েছে। এ পর্যন্ত একটি মামলার তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। আসামিদের তালিকায় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন পেশার সাধারণ মানুষের নামও রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে কমিশনার বলেন, তদন্ত কর্মকর্তারা স্বাধীনভাবে কাজ করছেন, তাদের ওপর কোনো চাপ নেই। ফলে সঠিক তদন্ত নিশ্চিত করতে সময় লাগছে।
তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২০ মাস পার হলেও মামলাগুলোর দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। তাদের অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া হলেও নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই তৎপরতা কমে গেছে। অনেক ক্ষেত্রে সাক্ষী হাজির করা যাচ্ছে না এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এখনো পর্যাপ্ত সহায়তা বা পুনর্বাসন পায়নি।
এদিকে চট্টগ্রামের আন্ডারওয়ার্ল্ডের শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে ‘বড় সাজ্জাদ’-কে ধরতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান কমিশনার। তিনি বলেন, নগরকে সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য হতে দেওয়া হবে না এবং রাজনৈতিক পরিচয়ে চাঁদাবাজি বা অপরাধ কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না।
গত ১৬ মার্চ সিএমপি কমিশনার হিসেবে বদলি হওয়ার পর ৩১ মার্চ চট্টগ্রামে যোগ দেন শওকত আলী এবং ১ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে সিএমপির উপ-কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় নগরের অপরাধ পরিস্থিতি সম্পর্কে তার অভিজ্ঞতা রয়েছে।
দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি চাঁদাবাজি ও মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেন। এ বিষয়ে পরিকল্পনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পরিকল্পনা আগে প্রকাশ করা যায় না।’ তবে নগরবাসীকে শতভাগ পুলিশি সেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন।
তিনি আরও বলেন, অতীত নিয়ে না ভেবে ভবিষ্যতে কার্যকর পরিবর্তন আনতে চান। ‘মুখে কম, কাজে বেশি’—এই নীতিতে কাজ করে নগরবাসীর আস্থা অর্জনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
