মূল সংবাদে যান
অপরাধ

স্বামীর জমানো ৩৩ লাখ টাকা জিপিওতে আটকে, ৪ বছর ধরে হয়রানি

মৃত স্বামীর জমানো টাকা তুলতে গিয়ে চট্টগ্রাম জেনারেল পোস্ট অফিসে (জিপিও) চরম হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন এক নারী। শতভাগ নমিনি হওয়া সত্ত্বেও কর্মকর্তাদের অসহযোগিতায় চার বছর ধরে জিপিওর দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন নগরীর আসকার দীঘির পাড় এলাকার বাসিন্দা মৃত সৈয়দ সিরাজুল হকের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম।

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল
স্বামীর জমানো ৩৩ লাখ টাকা জিপিওতে আটকে, ৪ বছর ধরে হয়রানি

অভিযোগে জানা যায়, চট্টগ্রাম জেনারেল পোস্ট অফিস–এ সৈয়দ সিরাজুল হকের দুটি হিসাবে মোট ৩৩ লাখ ৫৭ হাজার ৬০০ টাকা জমা রয়েছে। এর মধ্যে মেয়াদি হিসাব (এফডি নম্বর ১১৬৫৬৯)–এ ৩০ লাখ এবং সাধারণ হিসাব (এসবি-৬৬১৭৬২)–এ ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৬০০ টাকা রয়েছে। ২০২২ সালের ১৫ জুলাই তার মৃত্যু হয়।

স্বামীর মৃত্যুর পর বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে দাবি করেন মনোয়ারা বেগম। চিকিৎসার প্রয়োজন থাকলেও জিপিওর জটিলতায় তিনি স্বামীর রেখে যাওয়া আমানত তুলতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেন।

গত ৭ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে জিপিওর পোস্টমাস্টার (সঞ্চয়) মো. একরামুল হক মরণোত্তর দাবি নিষ্পত্তির জন্য তাকে একটি চিঠি দেন। সেখানে মূল পাসবই দুটি নিয়ে যোগাযোগ করতে বলা হয়। এর জবাবে গত ৫ ফেব্রুয়ারি মনোয়ারা বেগম লিখিতভাবে জানান, তার স্বামীর প্রথম পক্ষের ওয়ারিশরা পাসবই দুটি লুকিয়ে রেখেছে। একাধিকবার চাওয়ার পরও তা ফেরত দেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় ২০২২ সালের ১৯ জুলাই কোতোয়ালি থানা–এ একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তিনি।

মনোয়ারা বেগমের অভিযোগ, প্রথম পক্ষের ওয়ারিশরা প্রকৃত নমিনির তথ্য গোপন করে এবং জালিয়াতির মাধ্যমে আদালত থেকে একটি সাকসেশন সনদ সংগ্রহ করেছে। মামলার নথিতে তিনি বা তার ছেলে কোনো স্বাক্ষর করেননি দাবি করে ওই সনদকে সম্পূর্ণ জাল ও বেআইনি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মনোয়ারা বেগমের একমাত্র ছেলে সৈয়দ শাহজাহান সিরাজ বলেন, জিপিওর গাফিলতির কারণেই তারা পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিষয়টি আগ্রাবাদ সার্কেল অফিসে পাঠানো হলে সেখান থেকে নমিনি ফরম জমা দিতে বলা হয়। কিন্তু জিপিও এখন সেই নমিনি ফরম খুঁজে পাচ্ছে না বলে জানানো হচ্ছে। গ্রাহকের গুরুত্বপূর্ণ নথি সংরক্ষণে এমন অব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

এ বিষয়ে জিপিওর পোস্টমাস্টার (সঞ্চয়) মো. একরামুল হক বলেন, মূল পাসবই সংগ্রহ করতে না পারায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি প্রথম পক্ষের ওয়ারিশরা আদালত থেকে সাকসেশন সনদ নিয়েছে বলেও জানান তিনি।

শতভাগ নমিনি থাকার পরও সাকসেশন সনদ কীভাবে গ্রহণযোগ্য হলো—এ প্রশ্নে তিনি বলেন, এটি আদালতের বিষয়। মনোয়ারা বেগমকে আদালতেই প্রমাণ করতে হবে তার স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে কি না। জিপিও আদালতের বাইরে গিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না।

পাসবই হারানোর জিডির বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন, পাসবই যে প্রথম স্ত্রীর ওয়ারিশদের কাছে আছে তা যদি স্বীকার করা হয়ে থাকে, তবে মনোয়ারা বেগম সেটি উদ্ধার করতে পারছেন না কেন।

এ বিষয়ে জিপিওর ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল মো. আবদুল্লাহর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সম্পর্কিত বিষয়

  • জিপিও
  • হয়রানি

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল

আমাদের বাংলা-এ প্রকাশিত সংবাদ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন