এই চক্রে কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার বিভিন্ন রেঞ্জে দায়িত্ব পালনকালে সরকারি বরাদ্দ আত্মসাতের অভিযোগে আলোচিত দুই বন কর্মকর্তাও রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
জানা যায়, বিগত সরকারের সময়ে সরকারি বনাঞ্চলে টেকসই বনায়নের নামে ব্যাপক অনিয়ম হয়। বিশেষ করে সুফল প্রকল্প-এর অর্থায়নে চট্টগ্রাম অঞ্চলে ৪৭ হাজার ৮০০ হেক্টর বনভূমিতে ১৩ কোটি ৮৫ হাজার গাছ রোপণের বিপরীতে মোট ৬৬৪ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। তবে বন সংশ্লিষ্টদের একাংশের দাবি, অনিয়ম ও লুটপাটের কারণে বর্তমানে এসব বনায়নের মধ্যে প্রায় দুই কোটি চারারও অস্তিত্ব নেই।
এছাড়া অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে চট্টগ্রাম অঞ্চলের ১০টি বন বিভাগে প্রায় ৮২ হাজার একর বনভূমি বেদখল হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তৎকালীন এক মন্ত্রীর পৃষ্ঠপোষকতা ও বন বিভাগের কিছু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার প্রশ্রয়ে সংরক্ষিত বনের জমি বিক্রি, বালু উত্তোলন, পাহাড় কাটা ও কাঠ পাচারের মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করা হয়।
সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ড. মোল্যা রেজাউল করিমকে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক হিসেবে পদায়ন করে। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর বন বিভাগের স্থবিরতা কাটাতে এবং সংঘবদ্ধ চক্রের অনিয়ম বন্ধে নিয়মিত বদলি ও পদায়ন শুরু করেন। মাঠপর্যায়ে টহল জোরদার ও বনজ সম্পদ রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।
তবে এসব পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ হয়ে বিগত সরকারের আমলে সুবিধাভোগী একটি চক্র তাঁর বিরুদ্ধে সক্রিয় হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন অনিবন্ধিত অনলাইন পোর্টাল ও ভুয়া ফেসবুক পেজে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও দাবি সংশ্লিষ্টদের।
চট্টগ্রাম সার্কেলের বন সংরক্ষক ড. মোল্যা রেজাউল করিম বলেন, দায়িত্ব পালনে তিনি কোনো অনিয়মকে প্রশ্রয় দেন না এবং নীতিমালা অনুসারেই সব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অধীনস্থ কেউ দুর্নীতি বা শৃঙ্খলাবিরোধী কাজে জড়িত থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। চাকরির শুরু থেকেই আমি দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি। সংরক্ষিত বনাঞ্চলে শৃঙ্খলা ও সুশাসন ফিরিয়ে আনতে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে। সবুজ বনায়নের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে একটি বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান তিনি।
