কিন্ত চট্টগ্রাম মহানগরের উন্নয়নের ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) সিডিএ ওয়াসা তাদের ব্যবসার লাভ দেখে সমতা অর্থনীতি বা পরিবেশ নয়। যা দুঃখজনক।
সোমবার (২৫ আগস্ট) নগরের একটি রেষ্টুরেন্টে আয়োজিত বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি বেলা আয়োজিত চট্টগ্রাম মহানগরের অপরিকল্পিত নগরায়ণ শীর্ষক আলোচনা সভায় কি নোট স্পিকার হিসাবে স্থপতি জেরিনা হোসেন উপরোক্ত বক্তব্য প্রদান করেন। স্বাগত বক্তব্য করেন বেলা চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বয়ক মনিরা পারভিন রুবা।
স্থপতি জেরিনা হোসেন বলেন, সিডিএ নগরের সল্ট গোলায় ছাব্বিশ তলা ভবনের ভিত্তি দিয়ে ছয় তলা ভবন করেছে। যার একটি দোকানও বিক্রি হয়নি। জনগণের টাকায় জনগণের সেবামূলক সংস্থা এই ধরনের অপরিকল্পি কাজ করাটা অপরাধ। পরিকল্পিত গনরায়ণ করতে হলে সিডিএ সিটি কর্পোরেশনের সমন্বয়ে একটি উচ্চতর প্রকৌশল পরিকল্পনা বিভাগ সৃষ্টি করার বিকল্প নাই। বিগত ৫০ বছরেও যা হয়নি।
চবি অধ্যাপক (প্রাক্তন) ড. শফিক হায়দার সভাপতিত্বে ও বেলার প্রোগ্রাম অ্যান্ড ফিল্ড কোর্ডিনেটর এএমএম মামুনের সঞ্চালনায় অতিথি হিসাবে আলোচনায় অংশগ্রহন করেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী স্বপন কুমার বড়ুয়া, পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপ পরিচালক সাবরিনা সুলতানা প্রকৌশলী সুভাষ বড়য়া, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ম্যাজিস্ট্রেট জাকিয়া মুমতাহীন, চুয়েট ফ্যাকাল্টি অব সিভিল এন্ড ইনভায়রনমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ডিন অধ্যাপক ড. আসিফুল হক, অধ্যাপক ডিপার্টমেন্ট অব আরবান এন্ড রিজিওন প্ল্যানিং ডিন মো. রাশেদুল হাসান চবি প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও অধ্যাপক হালদা রিসার্চ ল্যাব কোঅর্ডিনেটর ড. মনজুরুল কিবরিয়া। অন্যান্যদের মধ্যে আলোচনায় অংশ গ্রহন করেন, প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার, শাহরিয়ার খালিদ, সাংবাদিক আলীউর রহমান প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরীকে আধুনিক পরিবেশ সম্মত শহর হিসাবে গড়ে তুলতে হলে, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করে তা এক ছাতার নিচে থেকে বাস্তবায়িত হতে হবে। আগামী ৫০ বছরে নগরীর কোথায় কত মানুষের বসবাস হবে, ফুটপাত কোথায় থাকবে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট কত থাকবে ট্রাফিক সিস্টেম কিভাবে নিয়ন্ত্রন করা হবে তা নির্দিষ্ট করে শতভাগ নিরপেক্ষভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
এখন চসিক সিডিএ ওয়াসা যা করছে তা তু তু মে মে খেলা এইসব দিয়ে পরিকল্পিত নগরায়ন হবে না। ধোপা বার্বুচির কাজ করলে সেই রান্না খাওয়া যাবেনা। তেমনি স্থপতি পরিকল্পনাবিদের কাজ অদক্ষ প্রকৌশলী দিয়ে বাস্তবায়ন করলে তা ফল কখনও সঠিক হবেনা। চসিকে ১২ গ্রেড সুযোগ সুবিধা দিয়ে পরিকল্পনা বিদের নামে কেরানী রাখা হয়েছে। যা দুঃখজনক।
