জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে নিয়ে সাম্প্রতিক কটূক্তি, নির্বাচনী প্রস্তুতি, বাহিনীর শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি ইত্যাদি বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন।
কটূক্তি প্রসঙ্গে ধৈর্যের আহ্বান জানিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, “এসব গালিগালাজ শুনে অখুশি হওয়ার কিছু নেই। যারা এসব করছে, তারা আমাদের সন্তানের বয়সী। ওরা বড় হলে নিজেদের ভুল বুঝতে পারবে, তখন লজ্জিত হবে।”
এই বক্তব্যে তিনি সেনাবাহিনীর প্রতি আসা সমালোচনা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আক্রমণাত্মক মন্তব্যকে প্ররোচনায় না গিয়ে ধৈর্যের সঙ্গে মোকাবিলা করার নির্দেশ দেন। কারণ, এটি সেনাবাহিনীকে রাজনৈতিক উত্তেজনা থেকে দূরে রাখার কৌশল।
নির্বাচন ঘিরে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, দেশ এখন নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে উল্লেখ করে সেনাপ্রধান জানান, সেনাবাহিনী অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।
তিনি মনে করিয়ে দেন, সেনারা দীর্ঘ সময় ধরে মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন। তাই জনগণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখা, পেশাদারিত্ব দেখানো এবং প্রতিশোধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন।
এটি আসন্ন নির্বাচনে সেনাবাহিনীর নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করার এক ধরনের প্রতিশ্রুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জবাবদিহির বার্তা হিসেবে সেনাপ্রধান কঠোরভাবে জানিয়েছেন, কোনো সেনা সদস্যের রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নারী নির্যাতনের মতো অভিযোগও তদন্তাধীন, প্রমাণিত হলে শাস্তি হবে।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ট্রায়াল’ গ্রহণযোগ্য নয়। এতে স্পষ্ট হয় যে সেনাবাহিনী নিজস্ব প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলার মধ্যে থেকে অভ্যন্তরীণ অভিযোগ মোকাবিলা করতে চায়।
ভুয়া তথ্য ও বিভ্রান্তি প্রসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেনাবাহিনী নিয়ে ছড়ানো ভুয়া খবর ও অপপ্রচারের বিষয়ে সেনাপ্রধান বলেন, “এসব বার্তা দেখে বিভ্রান্ত হবেন না। সব সময় সতর্ক থাকবেন, যাতে কেউ বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াতে না পারে।”
বর্তমান ডিজিটাল যুগে তথ্যযুদ্ধ (information warfare)–এর ঝুঁকি সামনে রেখে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
ভবিষ্যতের বার্তা হিসেবে সেনাপ্রধান মনে করিয়ে দেন, একজন সেনা কর্মকর্তাকে গড়ে তুলতে রাষ্ট্র বিপুল অর্থ ব্যয় করে। তাই অপরাধে জড়িয়ে পড়ার পর তাঁকে বহিষ্কার করলে সেটি কেবল রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয়। এ কারণেই আগেভাগে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, দেশের মানুষ এখন সেনাবাহিনীর দিকে তাকিয়ে আছে। বাহিনীর চেইন অব কমান্ড অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ থেকে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রস্তুতি নিতে হবে।
