বুধবার (৩০ জুলাই) বিচারপতি হাবিবুল গনি ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন—চলমান চুক্তির এ প্রক্রিয়াকে কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না।
আদালতের বক্তব্য ও নির্দেশনা রুলে আরও বলা হয়, এনসিটির মতো গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে কেন স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র আহ্বান নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়া হবে না। রাষ্ট্রকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
রিটে বিবাদী করা হয়েছে নৌপরিবহন সচিব, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এবং পিপিপি (সরকার-বেসরকারি অংশীদারিত্ব) কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে।
রিটের পেছনের প্রেক্ষাপট এই রিটটি দায়ের করেন বাংলাদেশ যুব অর্থনীতিবিদ ফোরামের সভাপতি মির্জা ওয়ালিদ হোসাইন। তিনি বলছেন ‘নিউমুরিং টার্মিনালে সবই আছে, তবু কেন বিদেশির হাতে যাচ্ছে’ শীর্ষক প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন। মূল দাবি ছিল—এনসিটির মতো একটি সম্পূর্ণ সক্ষম টার্মিনাল বিদেশি অপারেটরের হাতে দেওয়ার প্রক্রিয়া স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতার বিবেচনায় প্রশ্নবিদ্ধ।
এনসিটির বর্তমান অবস্থা ৬ জুলাই মধ্যরাত থেকে নিউমুরিং টার্মিনালের দায়িত্ব নিয়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান চিটাগং ড্রাইডক লিমিটেড (সিডিএল)। সাইফ পাওয়ারটেকের সঙ্গে আগের চুক্তির মেয়াদ শেষে এই দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়। চিটাগং ড্রাইডক এই প্রথমবারের মতো টার্মিনাল অপারেটরের ভূমিকায় এসেছে।
২০০৭ সালে নির্মিত এই টার্মিনালেই দেশের অধিকাংশ আমদানি-রপ্তানি কনটেইনার ওঠানামা হয়। বন্দর কর্তৃপক্ষ এ পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৭১২ কোটি টাকার অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতি বিনিয়োগ করেছে এখানে।
কেন এই রুল গুরুত্বপূর্ণ-
চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির লাইফলাইন। সেখানে একটি পূর্ণাঙ্গ টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব কোন পদ্ধতিতে, কোন প্রতিষ্ঠানের হাতে যাবে—তা শুধুই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং অর্থনৈতিক স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রীয় নীতি-নৈতিকতার প্রশ্নেও গুরুত্বপূর্ণ।
এই রুলের মাধ্যমে আদালত কার্যত টার্মিনাল ব্যবস্থাপনার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, প্রতিযোগিতা ও আইনের শাসনের প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। পাশাপাশি এটা ভবিষ্যতের অবকাঠামো ও বন্দর ব্যবস্থাপনায় বেসরকারি কিংবা বিদেশি অংশগ্রহণের নীতিগত ভিত্তি নিয়েও পুনর্বিবেচনার সুযোগ তৈরি করেছে
