বুধবার (০৯ জুলাই) হাইকোর্টের বিচারপতি জাফর আহমেদ ও বিচারপতি মো. আখতারুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতের রায়ের পর প্রতিক্রিয়া মো. শরীফ উদ্দিন বলেন, ‘আমি ন্যায় বিচার পেয়েছি।’ ২০২৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-সহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিনকে অপসারণ করা হয়।
দুদকের তৎকালীন চেয়ারম্যান মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল, দুর্নীতি দমন কমিশন (কর্মচারী) চাকরি বিধিমালা-২০০৮ এর বিধি ৫৪ (২) তে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে পটুয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিনকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হলো। তিনি বিধি অনুযায়ী ৯০ দিনের বেতন এবং প্রযোজ্য সুযোগ-সুবিধা (যদি থাকে) পাবেন। কমিশনের অনুমোদনক্রমে জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হলো।
হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়, শরীফ উদ্দিনের চাকরিচ্যুতির প্রক্রিয়া ছিল আইন বহির্ভূত এবং অবিচারমূলক। আদালত রায়ে বলেন, “একজন সরকারি কর্মচারীকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে এভাবে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া সংবিধান ও প্রশাসনিক ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।” শরীফ উদ্দিন চট্টগ্রাম কার্যালয়ে কর্মরত থাকাকালে বেশকিছু বড় দুর্নীতি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
শরীফ উদ্দিন ২০১৯ সাল থেকে দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে দায়িত্বরত ছিলেন। তিনি চট্টগ্রামসহ কক্সবাজার অঞ্চলে দুর্নীতি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর বিষয়ে অনুসন্ধান করেছিলেন। বিশেষ করে কক্সবাজারে ভূমি অধিগ্রহণে দুর্নীতির তদন্তে সক্রিয় থাকায় তিনি দেশব্যাপী পরিচিত হয়ে ওঠেন।
এরপরই বিভিন্ন মহলের রোষানলে পড়েন বলে অভিযোগ ওঠে। ২০২২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি হঠাৎ করেই কোনো কারণ না দেখিয়ে তাকে চাকরিচ্যুত করে দুদক। সেই সময় তিনি অভিযোগ করেন, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কারণেই তাকে অপসারণ করা হয়েছে।
শরীফ দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না থাকা সত্ত্বেও চাকরিচ্যুত করা হয়, যা সংবিধান পরিপন্থী। সর্বশেষ ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি পরিবারসহ হত্যার হুমকি পান শরীফ। বিষয়টি নিয়ে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আইয়ুব খান চৌধুরী ও তার সঙ্গীদের বিরুদ্ধে সিসি টিভির ফুটেজসহ চট্টগ্রামের খুলশী থানায় সাধারণ ডায়রিও (জিডি) করেন তিনি।
