মূল সংবাদে যান
অপরাধ

কলম নয়, পকেটে বন্দুক—কেরানীগঞ্জে ‘পেনগান’ উদ্ধার

প্রথম দেখায় মনে হবে, এটি একটি সাধারণ কলম। পকেটে রাখা যায়, হাতে নেওয়া যায়—কিন্তু লেখা যায় না। কারণ এটি কলম নয়; ছোট আকারের একটি আগ্নেয়াস্ত্র। নাম ‘পেনগান’।

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল

পুরান ঢাকার নয়াবাজারে যুবদল নেতা রাসেলকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় এমন একটি অস্ত্র ব্যবহারের তথ্য পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সোমবার রাতে কেরানীগঞ্জ থেকে মামলার দুই আসামি সায়মন ও সোহেল ওরফে কাল্লুকে গ্রেফতারের পর তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ধার করা হয় পেনগানটি।

রাজধানীতে এ ধরনের অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা এটিই প্রথম বলে জানিয়েছে ডিবি। ছোট আকারের কারণে পকেট, ব্যাগ কিংবা শরীরের আড়ালে সহজেই লুকিয়ে রাখা যায় অস্ত্রটি। তল্লাশির সময়ও এটি সাধারণ কোনো কলম বলে মনে হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

ডিবির লালবাগ বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার নূরে আলম বলেন, রাসেলকে গুলি করার ঘটনায় ছায়া তদন্তের ধারাবাহিকতায় সায়মন ও সোহেলকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কেরানীগঞ্জ থেকে পেনগানটি উদ্ধার করা হয়েছে।

ডিবির ভাষ্য, অস্ত্রটি কীভাবে দেশে এসেছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের অন্য কোথাও এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে।

৮০ হাজার টাকায় কেনা

জিজ্ঞাসাবাদে সায়মন ও সোহেল জানিয়েছেন, প্রায় ৮০ হাজার টাকায় পেনগানটি সংগ্রহ করেছিলেন তারা। গত বুধবার তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ডে নেয় ডিবি।

উদ্ধার করা অস্ত্রটিতে কোনো নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের নাম বা চিহ্ন নেই। ফলে এর উৎস এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। ডিবির যুগ্ম কমিশনার (দক্ষিণ) মো. নাসিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে অস্ত্রটি ভারত বা পাকিস্তান থেকে দেশে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গুলির পর পালিয়ে যায় হামলাকারীরা

গত ৩ এপ্রিল রাতে পুরান ঢাকার নয়াবাজার পার্ক এলাকায় ছিলেন রাসেল। হঠাৎ একদল দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। একটি গুলি তার বুকের বাঁ পাশে লাগে। হামলার পর দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় তারা।

এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় চারজনের নাম উল্লেখ করে হত্যাচেষ্টা মামলা হয়। তদন্তে সায়মন ও সোহেলের নাম উঠে আসে। পরে তাদের গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে বেরিয়ে আসে পেনগানের তথ্য।

আগেও মিলেছে পেনগানের তথ্য

পেনগান নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তথ্য অবশ্য একেবারে নতুন নয়। গত বছরের এপ্রিলে খুলনার ফুলতলা উপজেলার ব্যবসায়ী সুমন হত্যা মামলার আসামি মোমিদ গাজীকে যশোর থেকে গ্রেফতার করেছিল র‌্যাব। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি পেনগানের তথ্য দিয়েছিলেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দেশের পশ্চিমাঞ্চলে অতীতে চরমপন্থিদের এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের নজিরও রয়েছে। সর্বশেষ আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এক সংসদ সদস্য হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার এক আসামির কাছ থেকেও এমন অস্ত্রের তথ্য পাওয়া গিয়েছিল।

তবে রাজধানীতে পেনগানের ব্যবহার বা বিস্তার কতটা হয়েছে, এখন সেটিই খতিয়ে দেখছে ডিবি। অস্ত্রটির উৎস, সরবরাহকারী এবং এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করাই তদন্তের পরবর্তী ধাপ।

সম্পর্কিত বিষয়

  • পেনগান

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল

আমাদের বাংলা-এ প্রকাশিত সংবাদ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন