মূল সংবাদে যান
অপরাধ

চট্টগ্রাম বন্দরে আবারো দুই জাহাজ সংঘর্ষ, তদন্তে স্রোত ও পাইলটেজ

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে এক দিনের ব্যবধানে দুটি পৃথক জাহাজ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার তেলবাহী ট্যাংকারের সঙ্গে বাল্ক ক্যারিয়ারের সংঘর্ষের পর শনিবার মধ্যরাতে আলফা অ্যাঙ্কোরেজে সংঘর্ষে জড়িয়েছে আরও দুটি বাল্ক ক্যারিয়ার।

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল
চট্টগ্রাম বন্দরে আবারো দুই জাহাজ সংঘর্ষ, তদন্তে স্রোত ও পাইলটেজ

তবে পরপর দুই ঘটনায় বড় ধরনের প্রাণহানি, জাহাজডুবি কিংবা পরিবেশ দূষণ না হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে বন্দরজুড়ে।

গত শনিবার (১৫ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে আলফা অ্যাঙ্কোরেজে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী স্ল্যাগবাহী বাল্ক ক্যারিয়ার ‘এমভি আনাসা’ প্রবল স্রোতের মধ্যে অ্যাঙ্কোরেজে প্রবেশের সময় নোঙর করে থাকা বাংলাদেশের পতাকাবাহী ‘এমভি জাহাব জাহান’-এর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

পরপর দুটি ঘটনায় কোনো প্রাণহানি বা পরিবেশ দূষণ না হলেও একই এলাকায় স্বল্প সময়ের ব্যবধানে সংঘর্ষের ঘটনা বন্দরের নিরাপদ নৌযান চলাচল ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে সতর্কতার প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে। তদন্ত শেষ হলে সর্বশেষ সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ও মুখপাত্র সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, প্রবল স্রোতের কারণে এমভি আনাসা নোঙর করা এমভি জাহাব জাহানের সামনের অংশে সামান্য ধাক্কা দেয়। এতে আনাসার ডান পাশের (স্টারবোর্ড) কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কোনো হতাহত, জাহাজে পানি প্রবেশ কিংবা পরিবেশ দূষণের ঘটনা ঘটেনি।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, দুই জাহাজে থাকা ২১ জন নাবিকই নিরাপদে রয়েছেন। সংঘর্ষের পর উভয় জাহাজ পরস্পর থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরে গিয়ে পুনরায় নোঙর করে। বর্তমানে ওই এলাকায় নৌযান চলাচলও স্বাভাবিক রয়েছে। দুর্ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য ঘটনাস্থলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের টাগ ‘কান্ডারি-৮’ এবং ‘বিএলভি লুসাই’ পাঠানো হয়।

প্রায় ৩৫ হাজার ৩৫০ টন স্ল্যাগ বহনকারী এমভি আনাসা ২০১১ সালে জাপানের ইওয়াগি শিপবিল্ডিংয়ে নির্মিত হয়। জাহাজটি এর আগে ‘নিও বিচউড’ ও ‘আইভিএস বিচউড’ নামে পরিচিত ছিল। অন্যদিকে, ২০০০ সালে নির্মিত বাংলাদেশের পতাকাবাহী এমভি জাহাব জাহানের দৈর্ঘ্য ১৯০ মিটার।

এর ঠিক এক দিন আগে, শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে প্রায় ৩৩ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল বা গ্যাস অয়েল বহনকারী তেলবাহী ট্যাংকার ‘এমটি সি স্পাইক’ নোঙর করে থাকা বাল্ক ক্যারিয়ার ‘এমভি সান শাইন’-এর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। ওই ঘটনাতেও বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়। কোনো প্রাণহানি কিংবা তেল ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া যায়নি। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি জাহাজ সংঘর্ষের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই বন্দরের নৌযান চলাচল, স্রোতের প্রভাব এবং পাইলটেজ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সর্বশেষ সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত করবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। তদন্তে দুই জাহাজের অবস্থান ও গতি, দুর্ঘটনার সময়কার স্রোতের গতিপ্রকৃতি এবং পাইলটেজ-সংক্রান্ত বিষয়গুলো বিশেষভাবে খতিয়ে দেখা হবে। অর্থাৎ শুধু সংঘর্ষের মুহূর্ত নয়, দুর্ঘটনার আগে জাহাজ দুটি কোন অবস্থানে ছিল, কী গতিতে চলছিল, অ্যাঙ্কোরেজে প্রবেশের সময় স্রোতের চাপ কতটা ছিল এবং পাইলটেজ ব্যবস্থাপনায় কোনো ত্রুটি বা সীমাবদ্ধতা ছিল কি না—এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আসবে।

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল

আমাদের বাংলা-এ প্রকাশিত সংবাদ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন