মূল সংবাদে যান
অপরাধ

স্ক্র্যাপ এলএনজি জাহাজের ট্যাংকে ‘মৃত্যুফাঁদ’ ঝড়ে গেল আটটি প্রাণ, তদন্তে আসছে বিশেষজ্ঞ দল

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে স্ক্র্যাপ এলএনজি জাহাজের ট্যাংক থেকে গ্যাস লিকেজে আটজনের মৃত্যু শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়—

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল

এটি শিপ রিসাইক্লিং শিল্পে ‘সেফটি কমপ্লায়েন্স’ কতটা কার্যকর, সেই প্রশ্নও সামনে এনেছে।

জাহাজের ট্যাংক নিরাপদ করা হয়েছিল কি না, গ্যাস শনাক্তে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা হয়েছিল কি না, বিস্ফোরণ নাকি বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে মৃত্যু—এসব প্রশ্নের উত্তর এখন তদন্তের অপেক্ষায়। এরই মধ্যে ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী ও বিস্ফোরক অধিদপ্তরের টিম পাঠানো হয়েছে। গঠন করা হচ্ছে বিশেষজ্ঞ সমন্বয়ে তদন্ত কমিটি।

শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে ভাটিয়ারী স্টেশন রোডসংলগ্ন সাগর উপকূলে ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্ক্র্যাপ এলএনজি জাহাজের একটি ট্যাংকে গ্যাস লিকেজ দেখা দেওয়ার পর সেখানে থাকা কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হলে একে একে মৃত্যুর খবর আসে। এ পর্যন্ত নিহত আটজন। আরও ১০ থেকে ১৫ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার পরপরই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে—এলএনজি বহনকারী জাহাজটি কাটার আগে সেটির ট্যাংক কতটা নিরাপদ করা হয়েছিল? কারণ শিপ রিসাইক্লিংয়ে পুরোনো জাহাজের সবচেয়ে বিপজ্জনক জায়গাগুলোর একটি হলো বন্ধ ট্যাংক বা আবদ্ধ স্পেস। বাইরে থেকে ট্যাংকটি খালি মনে হলেও ভেতরে গ্যাস, বাষ্প কিংবা অক্সিজেনের ঘাটতি থাকতে পারে। ফলে সেখানে প্রবেশ বা কাটিংয়ের কাজের আগে গ্যাস পরীক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

দুর্ঘটনার পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিহতদের স্বজনদের সান্ত্বনা দিতে এবং আহত শ্রমিকদের চিকিৎসার খোঁজ নিতে যান অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি ঘটনাটিকে ‘খুবই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করে জানান, এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি হবে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্ত্রী বলেন, ‘এখানে কারও পক্ষে-বিপক্ষে কিছু নেই। সরকারের দায়িত্ব তদন্ত করে সঠিক তথ্য বের করে আনা।’ একই সঙ্গে তিনি জানান, শিল্পের কমপ্লায়েন্সের ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে এবং শিপব্রেকিং ইয়ার্ডের গ্রেডিং ও সনদ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা মানদণ্ডের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। কোনো ঘাটতি থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। এই বক্তব্য দুর্ঘটনার তদন্তকে নতুন গুরুত্ব দিয়েছে। কারণ এখন শুধু ‘কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটল’ নয়, বরং আগে থেকেই কোনো নিরাপত্তা ঘাটতি ছিল কি না—সেটিও তদন্তের কেন্দ্রে আসছে।

দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনীর একটি টিম পাঠানো হয়েছে। বিস্ফোরক অধিদপ্তরের টিমও ঘটনাস্থলে গেছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানিয়েছেন, বিশেষজ্ঞদের নিয়ে তদন্ত টিম গঠন করা হবে। সেই তদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর বোঝা যাবে, ইয়ার্ডে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছিল কি না।

এখন ঘটনাস্থলে গ্যাসের উৎস, ট্যাংকের ভেতরের অবস্থা এবং গ্যাস নির্গমনের কারণ শনাক্ত করাই সবচেয়ে জরুরি। একই সঙ্গে উদ্ধারকারী দলের নিরাপত্তাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ উৎসস্থলে গ্যাসের ধরন ও ঘনত্ব নিশ্চিত না করে সেখানে প্রবেশ করাও উদ্ধারকারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

এলএনজি মূলত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস, যার প্রধান উপাদান মিথেন। জাহাজে এলএনজি পরিবহনের জন্য বিশেষ ধরনের ট্যাংক ব্যবহার করা হয়। জাহাজটি স্ক্র্যাপ হিসেবে ইয়ার্ডে আসার পর ট্যাংকে পূর্বের কার্গোর অবশিষ্ট বাষ্প বা অন্য কোনো পদার্থের উপস্থিতি থাকলে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে শুক্রবারের ঘটনায় ঠিক কোন গ্যাসের কারণে মৃত্যু হয়েছে, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়।

ফায়ার সার্ভিসও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর গ্যাসের ধরন নিশ্চিত হওয়ার কথা জানিয়েছে। তাই তদন্তের আগে নিহতদের মৃত্যুকে নির্দিষ্ট কোনো একটি গ্যাসের বিষক্রিয়া হিসেবে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করা যাবে না। এখানেই গ্যাস শনাক্তকরণ ব্যবস্থার গুরুত্ব। শুধু গন্ধ পাওয়া বা না পাওয়ার ওপর নির্ভর করে কোনো ট্যাংককে নিরাপদ বলা যায় না। ট্যাংকে অক্সিজেনের মাত্রা, দাহ্য গ্যাস এবং সম্ভাব্য বিষাক্ত গ্যাস—সবই যন্ত্রের মাধ্যমে পরীক্ষা করতে হয়।

ইয়ার্ডের ম্যানেজার মোহাম্মদ ইউসুফ জানিয়েছেন, শুক্রবার ইয়ার্ডের কার্যক্রম বন্ধ ছিল। সকালে স্ক্র্যাপ এলএনজি জাহাজের একটি ট্যাংকে লিকেজ দেখা দিলে বিষয়টি দেখতে স্থানীয় ও বহিরাগত কয়েকজন সেখানে যান। পরে তাঁরা গ্যাসে আক্রান্ত হন।

কার্যক্রম বন্ধ থাকলে জাহাজের কাছে লোকজন যাওয়ার অনুমতি কীভাবে মিলল? তাঁদের কেউ কি প্রশিক্ষিত শ্রমিক ছিলেন? ট্যাংকে প্রবেশের অনুমোদন কে দিয়েছিলেন? সেখানে প্রবেশের আগে গ্যাস পরীক্ষা হয়েছিল কি না? আর যদি গ্যাস লিকেজ আগে থেকেই শনাক্ত হয়ে থাকে, তাহলে এলাকাটি তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপদ দূরত্বে খালি করা হয়েছিল কি না? এসব প্রশ্নের উত্তর ছাড়া দুর্ঘটনার দায় ও কারণ নির্ধারণ অসম্পূর্ণ থেকে যেতে পারে।

ইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফেরদৌস ওয়াহিদের দাবি, স্ক্র্যাপ জাহাজ কাটার সময় বিস্ফোরণ ঘটে। অন্যদিকে ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, জাহাজের ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

দুই ধরনের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য তদন্তকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। যদি বিস্ফোরণ হয়ে থাকে, তাহলে কাটিংয়ের সময় দাহ্য গ্যাসের উপস্থিতি ছিল কি না, গ্যাসের ঘনত্ব কত ছিল এবং আগুনের উৎস কী ছিল—এসব পরীক্ষা করতে হবে। আর যদি বিষাক্ত গ্যাসের কারণে মৃত্যু হয়ে থাকে, তাহলে দেখতে হবে ট্যাংকের ভেতর কী ধরনের গ্যাস ছিল, কত ঘনত্বে ছিল এবং আক্রান্ত ব্যক্তিরা কতক্ষণ সেই পরিবেশে ছিলেন।

এমনকি দুই ধরনের ঝুঁকি একসঙ্গেও কাজ করে থাকতে পারে—এ সম্ভাবনাও পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে কোনো দুর্ঘটনার পর উদ্ধার তৎপরতা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো দুর্ঘটনা যাতে না ঘটে, সেই ব্যবস্থা আগে থেকে নিশ্চিত করা।

ফেরদৌস স্টিলের ঘটনায় এখন তাই তদন্তকারীদের সামনে থাকা উচিত একটি পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা অডিট। জাহাজটি ইয়ার্ডে প্রবেশের সময় তার নিরাপত্তা সনদ কী ছিল? ট্যাংক গ্যাসমুক্ত করার কাজ কে করেছে? গ্যাস পরীক্ষার রেকর্ড কোথায়? ট্যাংকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার আগে কী কী ধাপ অনুসরণ করা হয়েছিল? জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধারকারী দল প্রস্তুত ছিল কি? শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সরঞ্জাম ছিল কি? এমনকি ইয়ার্ডে কার্যক্রম বন্ধ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে লোকজন দুর্ঘটনাস্থলের কাছে গেলেন—সেটিও নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে তদন্ত করা দরকার।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর বক্তব্যে শিল্পের ‘কমপ্লায়েন্স’ বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি জানান, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর শিল্পের কমপ্লায়েন্সের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে এবং গ্রিন শিপব্রেকিং ইয়ার্ডের গ্রেডিং ও সনদ দেওয়ার বিষয়টিও রয়েছে।

এখন প্রশ্ন হলো—কাগজে কমপ্লায়েন্স আর বাস্তবে শ্রমিকের নিরাপত্তা কি একই জিনিস? একটি ইয়ার্ড প্রয়োজনীয় সনদ বা গ্রেডিং পেলেই ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিটি কাজ নিরাপদ হয়ে যায় না। নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর কি না, তা নির্ভর করে প্রতিদিনের কাজের সময় নিয়মগুলো বাস্তবে কতটা অনুসরণ করা হচ্ছে তার ওপর। গ্যাস পরীক্ষা করার যন্ত্র থাকলেই হবে না; সেটি নিয়মিত ব্যবহার হচ্ছে কি না, রেকর্ড রাখা হচ্ছে কি না এবং পরীক্ষার ফল অনুযায়ী কাজ বন্ধ বা সীমিত করা হচ্ছে কি না—এসবও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

সীতাকুণ্ডের শিপইয়ার্ডে শ্রমিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ নতুন নয়। বিলসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন দুর্ঘটনায় অন্তত তিনজন শ্রমিক নিহত এবং ৩৮ জন আহত হন। কিন্তু শুক্রবারের ঘটনা আগের সব ঘটনাকে ছাড়িয়ে গেছে ভয়াবহতায়। মাত্র একটি দুর্ঘটনায় আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এটি নিছক পরিসংখ্যান নয়। প্রতিটি মৃত্যুর সঙ্গে একটি পরিবার, একটি আয়, একাধিক নির্ভরশীল মানুষ এবং একটি ভবিষ্যৎ জড়িয়ে থাকে।

নিহতদের প্রত্যেক পরিবারের জন্য ১০ লাখ টাকা করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশন। জেলা প্রশাসক এই তথ্য জানিয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকেও সহায়তার কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী।

ক্ষতিপূরণ অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু ক্ষতিপূরণ দুর্ঘটনার কারণের বিকল্প নয়। আটটি পরিবারের তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি তদন্তে যদি কোনো অবহেলা, নিয়ম না মানা, তদারকির ঘাটতি বা নিরাপত্তা প্রটোকল ভঙ্গের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে দায়ও নির্ধারণ করতে হবে। কারণ দায় নির্ধারণ না হলে ভবিষ্যতের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসার সম্ভাবনাও কমে যায়।

ফেরদৌস স্টিলের দুর্ঘটনায় বিশেষজ্ঞ তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তের পর তদন্তে অন্তত এসব বিষয় গুরুত্ব পাওয়া দরকার— ১. ট্যাংকের ভেতরে কোন গ্যাস বা রাসায়নিক ছিল? ২. দুর্ঘটনার সময় অক্সিজেনের মাত্রা কত ছিল? ৩. দাহ্য গ্যাসের ঘনত্ব কত ছিল? ৪. জাহাজটি কাটার আগে ট্যাংক গ্যাসমুক্ত করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছিল কি না? ৫. গ্যাস পরীক্ষার লিখিত রেকর্ড আছে কি না? ৬. দুর্ঘটনার আগে ট্যাংকে প্রবেশের অনুমতি কে দিয়েছিলেন? ৭. শ্রমিকদের নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ ও সুরক্ষা সরঞ্জাম যথাযথ ছিল কি না? ৮. জরুরি উদ্ধার পরিকল্পনা ও রেসকিউ টিম কার্যকর ছিল কি না? ৯. বিস্ফোরণ এবং গ্যাসের বিষক্রিয়া—দুই সম্ভাবনার মধ্যে কোনটির পক্ষে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়? ১০. ইয়ার্ডের আগের নিরাপত্তা পরিদর্শনে কোনো ত্রুটি চিহ্নিত হয়েছিল কি না এবং তা সংশোধন করা হয়েছিল কি না?

সীতাকুণ্ডের এই দুর্ঘটনার সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো—যে ঝুঁকি মানুষের চোখে দেখা যায় না, সেটিই কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আটটি পরিবারের জীবন বদলে দিয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো তদন্তাধীন। তাই আগেভাগে কাউকে দায়ী করা যেমন ঠিক হবে না, তেমনি ঘটনাটিকে শুধু ‘দুর্ভাগ্যজনক দুর্ঘটনা’ বলেও দায় শেষ করা যাবে না।

কারণ আটজন মানুষের মৃত্যু একটি বড় প্রশ্ন রেখে গেছে—জাহাজটি কাটার আগে যদি গ্যাস শনাক্ত করা সম্ভব হয়ে থাকে, তাহলে সেই ঝুঁকি শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা কেন প্রাণহানি ঠেকাতে পারেনি? এই প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করবে শুক্রবারের ঘটনা শুধু একটি দুর্ঘটনা ছিল, নাকি এর পেছনে ছিল প্রতিরোধযোগ্য কোনো নিরাপত্তা ব্যর্থতা।

শিপইয়ার্ডে আবারও আটটি প্রাণ ঝরে গেল। একটি স্ক্র্যাপ জাহাজের ট্যাংকে জমে থাকা অদৃশ্য গ্যাস যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল—লোহার জাহাজ ভাঙার এই বিশাল শিল্পে সবচেয়ে দুর্বল জায়গাটি এখনো মানুষের নিরাপত্তা। তদন্ত যদি কেবল দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে হয়তো এবারও কিছুদিন পর একই ধরনের আরেকটি দুর্ঘটনার খবর আসবে। আর তখনও প্রশ্ন থাকবে—একটি প্রাণহানি ঠেকাতে যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগে থেকেই নেওয়া সম্ভব ছিল, সেটি কেন নেওয়া হয়নি?

সম্পর্কিত বিষয়

  • স্ক্র্যাপ এলএনজি জাহাজ

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল

আমাদের বাংলা-এ প্রকাশিত সংবাদ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন