মূল সংবাদে যান
শিক্ষা ও চিকিৎসা

জীবন বাঁচানোর লড়াইয়ে চমেক এর পাশে কেএসআরএম

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল শুধু চট্টগ্রাম নয়, কক্সবাজার, পার্বত্য তিন জেলা, নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুরসহ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কয়েক কোটি মানুষের সর্বশেষ ভরসাস্থল|

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল
জীবন বাঁচানোর লড়াইয়ে চমেক এর পাশে কেএসআরএম

প্রতিদিন গড়ে পাঁচ থেকে ছয় হাজারের বেশি রোগী এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন| অথচ জনসংখ্যা ও রোগীর চাপের তুলনায় উন্নত চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি দীর্ঘদিনের বাস্তবতা|

এ বাস্তবতায় দেশের অন্যতম শীর্ষ ইস্পাত প্রস্তুতকারী শিল্পগ্রুপ কেএসআরএম (কঝজগ) প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের অত্যাধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম হাসপাতালকে প্রদান করেছে| গতকাল শনিবার চমেক হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে কেএসআরএম’র উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম উদ্দিন ¯^াস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বাজেট) আরিফ আহমদ ও চমেক হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিনের কাছে বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম হস্তান্তর করেন|

কেএসআরএম চমেক হাসপাতালকে দেওয়া সরঞ্জামগুলো হচ্ছে - চারটি অত্যাধুনিক হিমোডায়ালাইসিস মেশিন, চারটি রিয়েল-টাইম ৪ডি আল্ট্রাসাউন্ড মেশিন, জিই (এঊ) ব্র্যান্ডের একটি উন্নত কালার ডপলার সিস্টেম| এসব যন্ত্র কিডনি রোগী, গর্ভকালীন জটিলতা, হৃদরোগ, রক্তনালীর সমস্যা এবং জরুরি রোগ নির্ণয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে|

চিকিৎসকদের মতে, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ধারণক্ষমতা প্রায় ২ হাজার ২০০ শয্যা হলেও বাস্তবে প্রায়ই চার থেকে পাঁচ হাজারের বেশি রোগী ভর্তি থাকেন| এ কারণে বিদ্যমান চিকিৎসা সরঞ্জামের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে| ডায়ালাইসিস মেশিন বাড়ায় কিডনি রোগীদের অপেক্ষার সময় কমবে| ৪ডি আল্ট্রাসাউন্ড গর্ভস্থ শিশুর জটিলতা দ্রুত শনাক্তে সহায়ক হবে| কালার ডপলার প্রযুক্তি হৃদরোগ ও রক্তপ্রবাহজনিত রোগ নির্ণয়ে আরও নির্ভুল ফল দেবে| অনেক রোগীকে আর বেসরকারি হাসপাতালে ব্যয়বহুল পরীক্ষা করাতে হবে না|

এসময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ¯^াস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বাজেট) আরিফ আহমদ বলেন, ২ হাজার ২০০ শয্যার এ হাসপাতালের জন্য বরাদ্দ বাজেট প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম| ফলে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে নানা সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হতে হয়| অনেক রোগী চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে আর্থিকভাবে নিঃ¯^ হয়ে পড়েন| কেএসআরএমের এই সহায়তা সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবায় সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে| পাশাপাশি তিনি দেশের অন্যান্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানকেও ¯^াস্থ্য খাতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান|

চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন বলেন, যেকোনো দুর্যোগ বা সংকটময় সময়ে কেএসআরএম হাসপাতালের পাশে দাঁড়িয়েছে| তিনি জানান, নতুন যন্ত্রপাতি জরুরি মুহূর্তে রোগীর জীবন রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে এবং ¯^ল্প ব্যয়ে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে|

কেএসআরএমের পরিচালক (বিক্রয় ও বিপণন) জসিম উদ্দিন বলেন, মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘদিনের অঙ্গীকার| দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সর্ববৃহৎ সরকারি হাসপাতাল হিসেবে চমেকে প্রতিদিন হাজারো দরিদ্র রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন| সেখানে উন্নত চিকিৎসা সরঞ্জামের সংযোজন চিকিৎসার মান বৃদ্ধির পাশাপাশি রোগীর ব্যয়ও কমাবে| ¯^াস্থ্য, শিক্ষা ও মানবিক সহায়তার বিভিন্ন কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে|

দেশের বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কেএসআরএম দীর্ঘদিন ধরে করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগ পরিচালনা করছে| প্রাকৃতিক দুর্যোগে ত্রাণ বিতরণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহায়তা, ¯^াস্থ্যসেবা উন্নয়ন, করোনা মহামারির সময় চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ এবং জনকল্যাণমূলক নানা কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি সামাজিক অংশীদারিত্বের নজির ˆতরি করেছে|

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ যেন ¯^াস্থ্য খাতে এক নতুন বার্তা| বাংলাদেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ দ্রুত বাড়লেও বাজেট ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা সেই অনুপাতে বৃদ্ধি পায়নি| ফলে করপোরেট খাতের পরিকল্পিত অংশগ্রহণ ¯^াস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে| শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, উন্নত চিকিৎসা সরঞ্জাম, প্রযুক্তি, গবেষণা এবং চিকিৎসক প্রশিক্ষণে বেসরকারি শিল্পগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ বাড়লে সরকারি ¯^াস্থ্যব্যবস্থা আরও কার্যকর হবে|

চমেক হাসপাতালে কেএসআরএমের এই প্রায় দুই কোটি টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রদান কেবল একটি অনুদান নয়; এটি সরকারি ¯^াস্থ্যসেবাকে শক্তিশালী করতে শিল্পখাতের দায়িত্বশীল অংশীদারিত্বের বাস্তব উদাহরণ| উন্নত প্রযুক্তির এসব যন্ত্র প্রতিদিন অসংখ্য সংকটাপন্ন রোগীর চিকিৎসায় ব্যবহৃত হবে এবং বহু নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারকে ব্যয়বহুল বেসরকারি চিকিৎসার বিকল্প দেবে| ¯^াস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের অন্যান্য বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠানও যদি একইভাবে সরকারি হাসপাতালগুলোর পাশে দাঁড়ায়, তাহলে সার্বিক ¯^াস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে তা উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে|

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন কেএসআরএম’র উপ পরিচালক ডা. ইলিয়াছ চৌধুরী, সহকারী পরিচালক ডা. কাজী সাইফুল আলম, ডা. দেব প্রসাদ চক্রবর্তী, ডা. রুমা ভট্টাচার্য্য, কেএসআরএম’র উপ মহাব্যবস্থাপক ওয়াহিদুজ্জামান, মোস্তফা আনোয়ার, মিডিয়া অ্যাডভাইজার মিজানুল ইসলাম, ব্যবস্থাপক তাজ উদ্দিন, করপোরেট চিকিৎসক ডা. মেজবাহ উদ্দিন, ডা. জুনায়েদ আহমেদ, কেএসআরএম’র ব্র্যান্ড সমš^য়ক মনিরুজ্জামান রিয়াদ, মিজান উল হক, মিথুন বড়ুয়া, মিজানুল ইসলামসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা|

সম্পর্কিত বিষয়

  • কেএসআরএম
  • চমেক

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল

আমাদের বাংলা-এ প্রকাশিত সংবাদ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন