আজ বৃহস্পতিবার প্রকাশিত রোড সেফটি ফাউন্ডেশন-এর ‘ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবেদন’-এ এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৪ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ১৫ দিনের তথ্যের ভিত্তিতে এই চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন সংবাদমাধ্যম, ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
সংস্থাটির হিসাবে, গত বছরের ঈদুল ফিতরে ১১ দিনের ঈদযাত্রায় ২৫৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৪৯ জন নিহত হয়েছিলেন। সে সময় প্রতিদিন গড়ে নিহতের সংখ্যা ছিল ২২ জন।
এবারের ঈদযাত্রায় নিহতদের মধ্যে মোটরসাইকেলচালক ও আরোহী ১১৬ জন, বাসযাত্রী ৪১ জন, ট্রাক ও পিকআপের আরোহী ১৩ জন, প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাসের যাত্রী ২০ জন, থ্রি-হুইলার যাত্রী (ইজিবাইক, সিএনজি, অটোরিকশা, অটোভ্যান) ৫০ জন, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী ৯ জন এবং বাইসাইকেল আরোহী ২ জন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন দুই হাজারের বেশি মানুষ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দুর্ঘটনার ৩০.৮৩ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৪৩.১৬ শতাংশ আঞ্চলিক সড়কে, ১২.৮৬ শতাংশ গ্রামীণ সড়কে, ১১.২৬ শতাংশ শহরের সড়কে এবং ১.৮৭ শতাংশ ফেরিঘাটসহ অন্যান্য স্থানে ঘটেছে। সময়ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২৪.৩৯ শতাংশ দুর্ঘটনা সকালে, ২৩.০৫ শতাংশ দুপুরে, ২০.৩৭ শতাংশ রাতে এবং বাকিগুলো দিনের অন্যান্য সময়ে সংঘটিত হয়েছে।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৪.৯৩ শতাংশ দুর্ঘটনা এবং ২৪.৮৩ শতাংশ প্রাণহানি ঘটেছে। এর পরেই রয়েছে ঢাকা বিভাগ, যেখানে ১৭.৪২ শতাংশ দুর্ঘটনা ও ২৪.১৬ শতাংশ প্রাণহানি হয়েছে।
এর আগে গত ৩০ মার্চ বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতি-এর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, এবারের ঈদে সড়ক, রেল ও নৌপথে ৩৭৭টি দুর্ঘটনায় ৩৯৪ জন নিহত এবং ১ হাজার ২৮৮ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে শুধু সড়কেই ৩৪৬টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩৫১ জন।
