প্রতিশ্রুত স্মৃতিসৌধ ও জাদুঘরের কাজ শুরু না হওয়ায় মুক্তিযোদ্ধা ও সচেতন মহলে বাড়ছে ক্ষোভ ও হতাশা। বর্তমানে অস্থায়ী একটি স্মৃতিসৌধেই সীমাবদ্ধ রয়েছে আনুষ্ঠানিকতা, যা ইতিহাস সংরক্ষণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৩ মার্চ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ১৫০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৩০ ফুট প্রস্থের অস্থায়ী স্মৃতিসৌধ উদ্বোধন করা হয়। তখন জানানো হয়েছিল, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধের আদলে ৩ থেকে ৫ বছরের মধ্যে এখানে স্থায়ী স্মৃতিসৌধ ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নির্মাণ করা হবে এবং এ জন্য ৩০ একর জমি নির্ধারণ করা হবে। তবে এখনো প্রকল্পের দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।
সরেজমিনে দেখা যায়, নগরের উত্তর কাট্টলির অস্থায়ী স্মৃতিসৌধ এলাকায় ৭ থেকে ৮ জন শ্রমিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রঙের কাজ করছেন। তারা জানান, কয়েকদিন আগে কাজ শুরু করে প্রথমে ঝোপঝাড় পরিষ্কার করা হয়। এখন স্তম্ভ, সিঁড়ি ও বেদিতে রঙ করা হচ্ছে। পুরো প্রাঙ্গণ কৃত্রিম ঘাসে সাজানো হয়েছে এবং কাঁটাতার দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে এলাকা। প্রবেশপথে নির্মাণ করা হয়েছে একটি অস্থায়ী গেট। বয়স্ক ও শারীরিকভাবে অক্ষমদের চলাচলের জন্য উত্তর-পূর্ব পাশে বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, আর দক্ষিণ পাশে রাখা হয়েছে গাড়ি পার্কিংয়ের সুবিধা।
ডিসি পার্কের ইনচার্জ মো. আব্দুর রশিদ বলেন, “বৃহস্পতিবার সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে এখানে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। তোপধ্বনি, পতাকা উত্তোলন ও পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে কর্মসূচি পালন করা হবে।”
স্থানীয় বাসিন্দা ও ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য মো. সিরাজ উদ্দিন বলেন, “এমন জায়গায় স্মৃতিসৌধটি করা হয়েছে, যেখানে দিনে-দুপুরেও মানুষ যায় না। আমরা চাই নতুনভাবে বাংলাদেশ গড়ে উঠুক। স্থানীয়ভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন বলে আশা করি।”
চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি শাহেদ আকবর বলেন, “স্মৃতিসৌধের জায়গাটি স্থায়ীভাবে নির্ধারণ জরুরি। পাশাপাশি আশপাশের পরিবেশ ও যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রয়োজন। নাজুক সড়ক ও আলোর অভাবের কারণে সাধারণ মানুষের যাতায়াত বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।”
বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী বলেন, “স্বাধীনতার চেতনা যথাযথভাবে ধারণ ও সংরক্ষণ করা হয়নি। দলীয় স্বার্থে ইতিহাস ব্যবহারের প্রবণতা বেড়েছে। ফলে আজও আমাদের একটি পূর্ণাঙ্গ স্মৃতিসৌধ বা স্মৃতি সংগ্রহশালা নেই, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকত জানান, স্থায়ী স্মৃতিসৌধ ও জাদুঘরের জন্য প্রস্তাবিত জমি বরাদ্দ চেয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে কোনো অগ্রগতি জানানো হয়নি।
২৬ মার্চ সূর্যোদয়ের সঙ্গে কাট্টলী স্মৃতিসৌধে তোপধ্বনি ও পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। এছাড়া সকাল ৮টায় এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে কুচকাওয়াজ এবং সকাল ১১টায় সার্কিট হাউজে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
