দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় চট্টগ্রামে ইস্টার্ন ব্যাংকের ম্যানেজারসহ ৩ আসামিকে ১৪ বছরেরর কারাদণ্ড ও জরিমানা করেছেন আদালত। মঙ্গলবার ১১ নভেম্বর চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. মিজানুর রহমান এ রায় দেন। দণ্ডিত আসামিরা বিভিন্ন মামলায় বর্তমানে কারা ভোগ করছেন।
দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোকাররম হোসাইন বলেন, ‘ইস্টার্ন ব্যাংকের চট্টগ্রাম মহানগরের ও আর নিজাম রোড শাখার সাবেক প্রায়োরিটি ম্যানেজার ইফতেখারুল কবিরকে ১৪ বছর, প্রতারণা চক্রের সদস্য আজম চৌধুরীকে ১৪ বছর ও জাকির হোসেন বাপ্পিকে ৮ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তাদের আত্মসাৎ করা অর্থ জরিমানা করা হয়েছে।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, নগরের চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার বি-ব্লকের ১৩ নম্বর রোডের ৩০২ নম্বর খান ভিলার বাসিন্দা প্রবাসী আবুল মনসুর খানের ২ কোটি ৬৫ লাখ ৭৩ হাজার ১০৬ টাকা আত্মসাৎ করেন দণ্ডিত আসামিরা। তারা জাল জালিয়াতির মাধ্যমে গ্রাহকের এফডিআর এর টাকা আত্মসাৎ করেন। ওই সময় তারা গ্রাহককে ভূয়া এফডিআর দেখিয়ে ওই টাকা গ্রাহকের চেকের মাধ্যমে বিভিন্ন অংকের টাকা তুলে নেয়।
২০১৯ সালের ২২ আগস্ট এ ঘটনায় মহানগরের চান্দগাঁও থানায় জিডি করেন ভুক্তভোগী গ্রাহক। ওই অভিযোগ দুদকের পাঠানোর পর তদন্ত হয়। তদন্ত শেষে একই বছরের ১৪ অক্টোবর দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-১ এর তৎকালীন উপ পরিচালক মোহাম্মদ লুৎফুল কবির চন্দন বাদী হয়ে একটি মামলা করেন।
২০২০ সালের ১৪ অক্টোবর দুদকের পাঁচ কর্মকর্তা বাদী হয়ে ৮ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে ১৩টি মামলা করেন। তদন্তে তারা ১২ কোটি ৯৪ লাখ ১৫ হাজার ৪৩৩ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় পারস্পরিক যোগসাজশে জালিয়াতি, প্রতারণা, মিথ্যা নথি তৈরি, গ্রাহক ও ব্যাংককে মিথ্যা হিসাব বিবরণী দেওয়ার প্রমাণ পান।
