বিবৃতিতে বলা হয়, দেশে কয়েকটি করপোরেট সিন্ডিকেট একচেটিয়া ফিডের বাজার দখল করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে। যার ফলে ফিড, বাচ্চা ও ওষুধের দাম লাগামহীনভাবে বেড়ে চলেছে। প্রান্তিক খামারিরা প্রতিদিন ক্ষতির মুখে পড়ে টিকে থাকার লড়াই চালাচ্ছেন। প্রান্তিক খামারিরা প্রতিটি ডিমে ২ থেকে ৪ টাকা ও প্রতি কেজি মুরগিতে ৩০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত ক্ষতির মুখে পড়ছেন। পোলট্রি খাত রক্ষা করা না হলে এ খাতের ৫০ থেকে ৬০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়বে। দেশের সবচেয়ে বড় এই কৃষিভিত্তিক খাত আজ ভয়াবহ সংকটে।
এ সংকট নিরসনে সরকারের কাছে ৭ দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। তাদের দাবিগুলো হলো- ১. করপোরেট সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে ফিড, বাচ্চা, মেডিসিন ও ভ্যাকসিনের দাম সরকার কর্তৃক নির্ধারণ করতে হবে। ২. করপোরেট প্রভাবমুক্ত, ন্যায্য ও স্বচ্ছ বাজারব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। ৩. প্রান্তিক খামারিদের সংগঠনকে নীতিনির্ধারণ পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ৪. ফিড, বাচ্চা ও ওষুধের বাজারে নিয়মিত অডিট ও প্রকাশযোগ্য প্রতিবেদন ব্যবস্থা চালু করতে হবে। ৫. উৎপাদন খরচ অনুযায়ী ১০% লাভ যুক্ত করে ডিম ও মুরগির ন্যায্য দাম নির্ধারণ করতে হবে। ৬. ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের জন্য জামানতবিহীন ঋণ, প্রণোদনা ও ভর্তুকি দিতে হবে এবং ৭. নীতিনির্ধারণী পর্যায় দুর্নীতিগ্রস্ত ও করপোরেটপন্থি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে।
বিপিএ জানায়, ভারতে একটি ডিম উৎপাদনে খরচ মাত্র ৫ টাকা, এক কেজি ব্রয়লার ৮০ থেকে ৯০ টাকা। অথচ বাংলাদেশে ডিম ১০ টাকা ও ব্রয়লার ১৫০ থেকে ১৬৫ টাকা খরচে উৎপাদন হচ্ছে। আন্তর্জাতিকভাবে কাঁচামাল সস্তা হলেও দেশীয় সিন্ডিকেট অতি মুনাফার প্রতিযোগিতায় বাজার অস্থিতিশীল করে রেখেছে। ২০২১ সালে ৫০ কেজি লেয়ার ফিডের দাম ছিল ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকা, এখন ২৮০০ থেকে ৩০০০ টাকা। ব্রয়লার ফিড ২২২০ থেকে ২৪০০ টাকা থেকে বেড়ে ৩৪০০ থেকে ৩৫০০ টাকা হয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অজুহাত দেখিয়ে প্রতি বস্তায় ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা দাম বাড়ানো হয়েছিল, কিন্তু কাঁচামালের দাম অর্ধেকে নেমে এলেও দেশে কোনো কমতি দেখা যায়নি। ফলে খামারিরা প্রতিদিন লোকসান দিচ্ছেন।
বিপিএর দাবি, যদি সরকার এখনই দায়িত্বশীল পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে হাজার হাজার প্রান্তিক খামারি ধ্বংস হয়ে যাবে। এতে কোটি কোটি মানুষের প্রোটিন নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে, এবং ডিম-মুরগির দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে। যা জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তার জন্য এক গভীর বিপর্যয় ডেকে আনবে। পোলট্রি খাত রক্ষা করা না হলে এ খাতের ৫০ থেকে ৬০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়বে বলে বিপিএ’র বিবৃতিতে জানানো হয়।
