রঙিন স্বপ্ন ফিরল সাদা কফিনে! স্বপ্ন পূরণের আগেই তারা ফিরলেন দেশে—তবে জীবিত নয়, বরং সাদা কাফনে মোড়ানো নিথর দেহ হয়ে। দুর্ঘটনায় ব্যবহৃত যানটি ফেরার পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অন্য একটি গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষে পতিত হয়।
ওমানের ধুকুম প্রদেশের সিদরা এলাকায় গত ৮ অক্টোবর এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার ৮ প্রবাসী। তাদের মধ্যে ৭ জন সন্দ্বীপ উপজেলার এবং ১ জন রাউজান উপজেলার বাসিন্দা। তারা সাগরে মাছ ধরার কাজ করতেন। নিহতরা হলেন- সন্দ্বীপের সারিকাইত ইউনিয়নের আমিন মাঝি (৫০), মো. আরজু (২৬), মো. রকি (২৭), সাহাব উদ্দিন (২৮) ও মো. ঊাবলু (২৮), মাইটভাঙার মো. জুয়েল (২৮), রহমতপুরের মো. ওনি (২৬) এবং রাউজানের চিকদাইরের মো. আলাউদ্দিন (২৮)।
ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত আট প্রবাসীর মরদেহ শনিবার (১৮ অক্টোবর) রাত সাড়ে আটটার দিকে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-১২২ ফ্লাইটে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এরপর আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ সময় বিমানবন্দর এলাকায় কান্না ও শোকের আবহ সৃষ্টি হয়। এদও মধ্যে রাউজানের আলাউদ্দিনের জানাজা ও দাফন শনিবার রাতেই সম্পন্ন হয়। সন্দ্বীপের সাতজনের জানাজার জন্য পূর্ব সন্দ্বীপ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজন করা হলেও গোসল না হওয়ায় তা স্থগিত করা হয়। পরে রবিবার নিজ নিজ গ্রামে জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়।
এই দুর্ঘটনায় শুধু আটটি পরিবার নয়, পুরো সন্দ্বীপ ও রাউজান শোকাহত। দেশ হারাল পরিশ্রমী আটজন সন্তানের প্রাণ, যারা দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে বিদেশে ঘাম ঝরাচ্ছিলেন। সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতি পরিবারকে ৩৫ হাজার টাকা করে অনুদান প্রদান করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে জনপ্রতি আরও ৩ লাখ টাকা করে সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
বিমানবন্দরে জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক মহেন্দ্র চাকমা, উত্তর জেলা বিএনপির সিনিয়র নেতা ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক মহেন্দ্র চাকমা জানান, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের দ্রুত পদক্ষেপে আট প্রবাসীর মরদেহ চট্টগ্রাম এসে পৌঁছেছে। তাদের কাফন-দাফনের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক জনপ্রতি ৩৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে জনপ্রতি আরও ৩ লাখ টাকা করে দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ৮ অক্টোবর বাংলাদেশ সময় বিকেল চারটার দিকে ওমানের দুখুমের সিদ্দা এলাকায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় আট প্রবাসী নিহত হন। ওইদিন বিকালে সাগরে মাছ শিকার শেষে বাড়ি ফেরার পথে প্রবাসীদের বহন করা গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। তাদের মৃত্যুতে সন্দ্বীপ ও রাউজানে শোকের ছায়া নেমে আসে।
