মূল সংবাদে যান
অপরাধ

ইঞ্জিন সংকটে ভেঙে পড়ছে রেলসেবা\ লোকাল ও মালবাহী ট্রেনে আয় কমছে, লোকসান বাড়ছে

রেলসেবার ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের যাত্রীবাহী চট্টলা এক্সপ্রেস ১৬ আগস্ট চার ঘণ্টা দেরিতে ছেড়ে যায়। কারণ, আগের যাত্রায় ট্রেনটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়েছিল, আর কমলাপুরে বিকল্প ইঞ্জিন ছিল না।

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল
ইঞ্জিন সংকটে ভেঙে পড়ছে রেলসেবা\ লোকাল ও মালবাহী ট্রেনে আয় কমছে, লোকসান বাড়ছে

ফলে চট্টগ্রামের পথে যাওয়া একটি মালবাহী ট্রেন নরসিংদীতে থামিয়ে তার ইঞ্জিন ঢাকায় ফিরিয়ে আনা হয়। যথারীতি চট্টগ্রাম ছেড়ে যায় ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের যাত্রীবাহী চট্টলা এক্সপ্রেস। ফলে লোকাল ও মালবাহী ট্রেনে ভগ্ন রেলসেবায় আয় কমছে, লোকসান বাড়ছে।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, শুধুমাত্র ইঞ্জিন সংকটে প্রতিদিন একাধিক লোকাল, মেইল, কমিউটার ও মালবাহী ট্রেন বাতিল হচ্ছে। গত জুনেই পূর্বাঞ্চল রেলের ৪৩৫টি ট্রেন চলাচল বাতিল হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনালে কন্টেইনার ধারণক্ষমতা ৮৭৫ এর বিপরীতে আটকে আছে সহস্রাধিক কনটেইনার। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে আন্তনগর ট্রেনও বাতিল হতে পারে। এতে যাত্রী পরিবহন ও আয়ের দুই ক্ষেত্রেই ভেঙে পড়বে রেল ব্যবস্থা।

রেলের হিসাব অনুযায়ী, পূর্বাঞ্চলে মাল পরিবহন বাবদ গত অর্থবছরে আয় কমেছে ৫৫ কোটি টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মাল পরিবহন করে আয় হয়েছিল প্রায় ১৫৩ কোটি টাকা, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা নেমে আসে ৯৮ কোটিতে। একই সময়ে পরিবহন কমেছে প্রায় অর্ধেক। যাত্রী ও মালবাহী খাত মিলিয়ে রেলওয়ের আয়েও বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ হাজার ৭২৫ কোটি টাকা, আয় হয়েছে ১ হাজার ৮৪৬ কোটি—ঘাটতি প্রায় ৯০০ কোটি টাকা।

বর্তমানে রেলবহরে ৩০৬টি ইঞ্জিন থাকলেও ৬০ শতাংশই মেয়াদোত্তীর্ণ। নিয়মিত ব্যবহারের উপযোগী ইঞ্জিন আছে মাত্র ২০০টির মতো। নতুন ইঞ্জিন কেনার কোনো প্রকল্প এখনো অনুমোদিত হয়নি। চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথ প্রকল্পের আওতায় ৩০টি মিটারগেজ ইঞ্জিন কেনার পরিকল্পনা থাকলেও তা প্রাথমিক পর্যায়ে রয়ে গেছে। এদিকে পাহাড়তলী লোকোমেটিভ কারখানায় মেরামত করা ইঞ্জিনগুলোও বারবার বিকল হয়ে পড়ছে। তিন-চার বছর আগে কেনা নতুন ইঞ্জিনও দ্রুত অকেজো হয়ে যাচ্ছে।

বুয়েটের পরিবহন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সামছুল হক বলেন, রেলওয়ে আত্মঘাতী পথে হাঁটছে। বিশ্বজুড়ে মাল পরিবহনে জোর দেওয়া হলেও বাংলাদেশ রেলওয়ে ঠিক উল্টো করছে। কৃষকের পণ্য আনা-নেওয়ার লোকাল ট্রেন বন্ধ হয়ে গেছে, অথচ রাজনৈতিক চাপে নতুন আন্তনগর চালু হচ্ছে। এতে আয়-ব্যয় ভারসাম্য হারাচ্ছে। নতুন ইঞ্জিন দ্রুত বিকল হয়ে যাওয়ার কারণও তদন্ত করা জরুরি।

রেলের পূর্বাঞ্চলের সহকারী প্রধান পরিচালন সুপারিনটেনডেন্ট কামাল আখতার হোসেন মেকানিক্যাল বিভাগকে একটা চাহিদাপত্র পাঠান। এতে তিনি বলেন, পরিবহনের জন্য চট্টগ্রামে ১ হাজার ২৮৬টি কনটেইনার পড়ে আছে। কিন্তু ইঞ্জিনের অভাবে এসব কনটেইনার ট্রেন চালানো যাচ্ছে না। চিঠিতে বলা হয়, রেলের পূর্বাঞ্চলে মাল পরিবহনের জন্য বর্তমানে দুটি ইঞ্জিন রয়েছে। একটি দিয়ে কনটেইনার ও অন্যটি দিয়ে জ্বালানিবাহী ট্যাংকার পরিবহন করা হচ্ছে। জমে থাকা মালামাল পরিবহন করতে হলে প্রতিদিন গড়ে অন্তত ১৩টি মালবাহী ট্রেন চালানো দরকার।

সম্পর্কিত বিষয়

  • ইঞ্জিন সংকট
  • রেলওয়ে

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল

আমাদের বাংলা-এ প্রকাশিত সংবাদ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন