মামলার জটিলতা, প্রশাসনিক গাফিলতি আর খেলাপিদের কৌশল—সব মিলেই রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোর বিপুল অঙ্কের টাকা ঝুলে আছে। যত দিন না আইনি ফাঁক-ফোঁকর বন্ধ হচ্ছে, তত দিন জনগণের করের টাকা ফেরত আসবে না।
এর মধ্যে রিটের জালে জড়িয়ে মামলাগুলোর অবস্থা নাজুক করে তোলা হয়। একটি মামলার বিপরীতে ৪৪টি রিটের নজির আছে। এমনকি একটি মামলার বিপরীতে ৪৪টি রিট হয়েছে—এর মধ্যে ৪৩টি খারিজ হলেও একটি এখনো ঝুলে আছে। উচ্চ আদালতের নিয়ম অনুসরণ না করেও কার্যকারিতা স্থগিত করে দেন খেলাপিরা। ফলে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি বছরের পর বছর ঝুলে থাকে।
প্রশাসনিক জটিলতার কারণে আদালত সমন জারি করলেও পুলিশ আসামি ধরে না। জেলা প্রশাসকের আদালতে নামজারি–দখল মামলা হলেও কার্যকারিতা পায় না। শুনানি তালিকায় মামলাগুলো নিচের দিকে থাকায় দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়।
টাকা আটকে আছে জনতা ব্যাংকে ১৫ হাজার ১৫১ কোটি টাকা, সোনালী ব্যাংকে ৫ হাজার ৭৬ কোটি টাকা, অগ্রণী ব্যাংকে ৩ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা, রূপালী ব্যাংকে ৩ হাজার ৭৪৮ কোটি টাকা, বেসিক ব্যাংকে ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা, বিকেবি ১ হাজার ৫৭৫ কোটি টাকা, বিডিবিএল, রাকাব, আইসিবি, বিএসইসি, সাধারণ বীমা করপোরেশন মিলিয়ে বাকিটুকু।
দায় অনুসন্ধানে দেখা যায়- ব্যাংকের আইন বিভাগ শুনানিতে মনোযোগী নয়। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়ের অভাব। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের বৈঠকে স্বীকারোক্তি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর লোক আদালতে উপস্থিত থাকেন না।
প্রভাবস্বরূপ ৩৭ হাজার কোটি টাকা আটকে থাকায় ব্যাংকগুলো নতুন ঋণ দিতে পারছে না।আর্থিক খাতে তারল্য সংকট আরও বাড়ছে। খেলাপিদের ঋণফেরত না দেওয়ার সংস্কৃতি শক্ত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মধে অর্থনীতিবিদ: রিটের ফাঁদ ভাঙতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল প্রয়োজন। ব্যাংক কর্মকর্তারা: আইনজীবী নিয়োগে জবাবদিহি বাড়াতে হবে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা: ঋণখেলাপিদের নাম প্রকাশ করতে হবে।