কিন্তু জনবল নিয়োগ হয়নি একজনও। উল্টো অবসর ও অন্যান্য কারণে কর্মী কমেছে ব্যাপক হারে। ফলে প্রতিটি শাখায় পড়ছে তীব্র চাপ, ব্যাহত হচ্ছে নিয়মিত সেবা।
সরকারি সেবা সংস্থা চট্টগ্রাম ওয়াসায় সর্বশেষ অনুমোদিত অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদ ১ হাজার ১১৯টি। কিন্তু বর্তমানে কর্মরত মাত্র ৫০২ জন—অর্থাৎ অর্ধেকেরও বেশি ৫৫ শতাংশ বা ৬১৭ পদ শূন্য। যদিও ওয়াসা বর্তমানে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে।
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, কিন্তু নিয়োগ নেই- ২০১৭ সালের পর থেকে আর কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী সরাসরি নিয়োগ পাননি। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি ও এপ্রিল মাসে একাধিক পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়ে লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হলেও মৌখিক পরীক্ষা পর্যন্ত গড়ায়নি।
এই দীর্ঘসূত্রীতায় সেবা ব্যবস্থায় ভোগান্তি চরমে। কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, একজনকে নিজের দায়িত্বের পাশাপাশি দুই-তিনটি অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে, এমনকি ছুটির দিনেও কাজ করতে হচ্ছে অনেককে।
ওয়াসা সূত্র জানায়, গত এক দশকে বাস্তবায়িত হয়েছে কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প-১ ও ২, মদুনাঘাট পানি সরবরাহ প্রকল্প, ভান্ডালজুড়ি পানি সরবরাহ প্রকল্প এবং স্যুয়ারেজ প্রকল্পসহ চারটি বড় উদ্যোগ। এগুলো চালু রাখতে অনুমোদিত পদের বাইরে আরও ৪০০-৪৫০ জন জনবল প্রয়োজন হবে।
উৎপাদন বেড়েছে, লোকবল কমেছে - ১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রাম ওয়াসার ২০১০ সালে পানি উৎপাদন ছিল দৈনিক প্রায় ১৮ কোটি লিটার, গ্রাহক ছিল ৪৯ হাজার ৪৭৩টি। বর্তমানে উৎপাদন বেড়ে হয়েছে ৫০ কোটি লিটার, আর গ্রাহক দাঁড়িয়েছে ৯৭ হাজারে। কিন্তু লোকবল বাড়েনি, বরং শূন্যপদের সংখ্যা বেড়েছে।
চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম বলেন, “প্রকল্পগুলো চালু রাখতে প্রচুর লোকবল দরকার। বিশেষ করে প্রকৌশল শাখায় জনবলের অভাব মারাত্মক সমস্যা তৈরি করছে, যা পানি সরবরাহেও প্রভাব ফেলছে।”
ওয়াসার ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ারা বেগম বলেন, “মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে শিগগিরই লোক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।”
