মূল সংবাদে যান
অপরাধ

এলিফ্যান্ট ওভারপাস থাকার পরেও চুনতিতে থামছে না হাতি-ট্রেন

সংঘাত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার নতুন রেলপথ উদ্বোধনের পর থেকেই চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য অঞ্চলে ট্রেন ও বন্যহাতির সংঘর্ষ উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে।

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল
এলিফ্যান্ট ওভারপাস থাকার পরেও চুনতিতে থামছে না হাতি-ট্রেন

গত মঙ্গলবার (২২ জুলাই) রাতে ‘সৈকত এক্সপ্রেস’ ট্রেনের সঙ্গে একটি বন্যহাতির ধাক্কা লাগার ঘটনাটি আবারও এ রুটের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী যাত্রী রিদওয়ান সাইমুন জানান, ট্রেনটি এলিফ্যান্ট ওভারপাসের একদম সামনে পৌঁছানোর আগেই একাধিক হাতি রেললাইনে উঠে আসে। চালক ট্রেন থামালেও যাত্রীদের চিৎকারে একটি হাতি উত্তেজিত হয়ে ট্রেনের দিকে তেড়ে আসে এবং ধাক্কা দেয়। সৌভাগ্যক্রমে ট্রেন লাইনচ্যুত হয়নি এবং হাতিটিও পরে জঙ্গলে ফিরে যায়। চুনতি রেঞ্জ কর্মকর্তা গাজী বাহার উদ্দিন বলেন, ঘটনাস্থলের পাশে হাতির পায়ের ছাপ দেখা গেছে, তদন্ত চলছে।

তবে এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। ২০২৩ সালের অক্টোবরেও একই এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় একটি হাতির মৃত্যু হয়। অথচ এই অঞ্চলের ভেতর দিয়ে রেললাইন নির্মাণের সময় পরিবেশ অধিদপ্তরের সুপারিশ অনুযায়ী একাধিক এলিফ্যান্ট ওভারপাস নির্মাণ করা হয়েছিল।

কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এই ওভারপাসগুলো কতটা কার্যকরভাবে হাতির চলাচলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্থাপন করা হয়েছে? পরিবেশবিদদের মতে, ওভারপাস থাকলেই চলবে না—হাতিদের ব্যবহার অভ্যস্ত করাতে হবে। সেইসঙ্গে রেল কর্তৃপক্ষকে প্রযুক্তিনির্ভর আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা চালু করতে হবে, যেমন: থার্মাল সেন্সর ও সিসিটিভি ক্যামেরা, লোকোমাস্টারদের রিয়েল টাইম অ্যালার্ট, নির্দিষ্ট গতিসীমা ও রাত্রিকালীন ধীরগতি নির্দেশনা।

বাংলাদেশ বন বিভাগ বলছে, চুনতি অঞ্চলটি হাতির একটি প্রাচীন করিডর। বন্যহাতিরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে নির্দিষ্ট রুটে চলাচল করে। রেলপথ নির্মাণ সেই রুটে বাধা সৃষ্টি করেছে। এ অবস্থায় এলিফ্যান্ট ওভারপাসের কার্যকারিতা, অবকাঠামোর মান এবং রক্ষণাবেক্ষণ পদ্ধতি পুনর্মূল্যায়ন দরকার।

পরিবেশ কর্মী সালেহীন রউফ চৌধুরী বলেন, “রেললাইন নির্মাণের আগে ‘ইনভায়রনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট’ করা হলেও বাস্তবে তার অনেক কিছুই উপেক্ষা করা হয়েছে। ওভারপাসের অবস্থানও হাতিদের চলাচলের স্বাভাবিক রুটে নয়।” একটি হাতির জীবন কেবল একটি প্রাণীর মৃত্যু নয়—এটি একটি বাস্তুতন্ত্রের সংকেত।

চুনতির মতো সংরক্ষিত বনাঞ্চলে রেল যোগাযোগ অবশ্যই সময়ের দাবি, কিন্তু সেটি যেন উন্নয়নের নামে পরিবেশ ধ্বংসের প্রতীক না হয়। এখন প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদী, বৈজ্ঞানিক ও সহানুভূতিশীল পরিকল্পনা।

সম্পর্কিত বিষয়

  • বন বিভাগ
  • ট্রেন
  • হাতি

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল

আমাদের বাংলা-এ প্রকাশিত সংবাদ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন