সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে দেবী সর¯^তীর পূজা অনুষ্ঠিত হলেও স্থায়ী উপাসনালয়ের অভাবে শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজন করতে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হতো|
এ প্রেক্ষাপটে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাদের সমš^য়ে গঠিত সনাতন ধর্ম পরিষদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০১১ সালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মন্দির নির্মাণের জন্য জমি বরাদ্দ দেয়|
এরপর দেশ-বিদেশে অবস্থানরত প্রাক্তন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শুভানুধ্যায়ীদের অনুদানে ধাপে ধাপে গড়ে ওঠে মন্দির কমপ্লেক্স| প্রাথমিক পর্যায়ে সীমানা প্রাচীর, রিটেনশন ওয়াল ও মাটি ভরাটের কাজ শেষ হলে খোলা আকাশের নিচেই বার্ষিক সর¯^তী পূজা অনুষ্ঠিত হতো|
পরে প্রবাসী ব্যবসায়ী অদুল কান্তি চৌধুরীর আর্থিক সহায়তায় মূল মন্দির নির্মাণকাজ গতি পায়| ২০১৯ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর শুরু হয় পূর্ণাঙ্গ নির্মাণকাজ|
নকশা ও প্রকৌশল সহায়তা দেয় ‘এস্ট্রো’, আর ইন্টেরিয়র ও কারিগরি সহায়তা দেয় ‘দি-অ্যাড কমিউনিকেশন’| সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের সমš^য়ে গঠিত মন্দির নির্মাণ ও পরিচালনা কমিটি|
চবি কেন্দ্রীয় মন্দির উদ্বোধন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. তাপসী ঘোষ রায় বলেন, “জ্ঞানই শক্তি, জ্ঞানই মুক্তি—এই দর্শনকে সামনে রেখে মন্দিরটি শুধু পূজা-উপাসনার স্থান নয়, বরং আধ্যাত্মিক চর্চা ও মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে|”
মন্দির কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. অঞ্জন কুমার চৌধুরী জানান, ভবিষ্যতে এখানে ˆবদিক গ্রন্থাগার, সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামের জন্য অডিটোরিয়াম, ধ্যানকেন্দ্র এবং সনাতনী শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক সুবিধা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে|
মন্দির নির্মাণে সহায়তা প্রসঙ্গে অদুল কান্তি চৌধুরী বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের সনাতন ধর্মাবল¤^ী শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে একটি স্থায়ী উপাসনালয়ের অভাবে ছিলেন| বিষয়টি জানার পরই এ উদ্যোগে যুক্ত হই|”
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, “এই মন্দির প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মীয় সম্প্রীতির এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে| বিদ্যাদেবী সর¯^তীর এই মন্দির শিক্ষাঙ্গনের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক এবং এটি সনাতন ধর্মাবল¤^ীদের জন্য একটি আধ্যাত্মিক কেন্দ্র হয়ে উঠবে|” উল্লেখ্য, ‘সর¯^তী জ্ঞান মন্দির’ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সনাতনী শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হলো|
