ক্রিস্টেনসেনের ওয়ার সিমেট্রি পরিদর্শনের কথা জানিয়ে ফেইসবুকে একটি বিজ্ঞপ্তি পোস্ট করেন মেয়ার শাহাদাত হোসেন। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারী) সকাল ৮টার দিকে তিনি ওয়ার সিমেট্রি পরিদর্শনে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ বিভাগের কর্মকর্তা আজিজ আহমেদ।
আজিজ আহমেদ মেয়রের পোস্টের বরাত দিয়ে বলেন, পরিদর্শনকালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে শহীদ সেনাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত। একই সঙ্গে ওয়ার সেমেট্রির ঐতিহাসিক গুরুত্ব, সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং পরিবেশগত দিক নিয়ে মতবিনিময় করা হয়। এসময় মেয়র শাহাদাত হোসেন রাষ্ট্রদূতকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম, আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনা, নাগরিক সেবা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করেন।
মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, টেকসই ও আধুনিক নগর উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চট্টগ্রাম নগরীর বাদশা মিঞা সড়কে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহতদের জন্য এই ওয়ার সিমেট্রি প্রতিষ্ঠা করে ব্রিটিশ সেনাবাহিনী। রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম নগরীর উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রশংসা করেন এবং নগর উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, স্বাস্থ্য ও নাগরিক সেবাখাতে ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্ভাবনার কথা বলেন।
জানা যায়, যুদ্ধ চলাকালীন চট্টগ্রামে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মিত্র বাহিনী চতুর্দশ সেনাবাহিনীর একটি ক্যাম্প স্থাপন করে। সেখানে স্থাপিত হাসপাতালটি ১৯৪৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ১৯৪৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত চালু ছিল। এসময় চিকিৎসাধীন অবস্থায় যারা মারা গিয়েছিল, তাদের সম্মানার্থে সমাধিসৌধ প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রাথমিকভাবে এই সমাধিতে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ৪০০ মৃতদেহ সমাহিত করা হয়। এখানে ৭৫১টি যুদ্ধসমাধি রয়েছে, এর মধ্যে ১৪ জন নাবিক, ৫৪৫ জন সৈন্য এবং ১৯৪ জন বিমানবাহিনীর সদস্য রয়েছেন।
এছাড়াও এই যুদ্ধ সমাধিতে বিশ্বযুদ্ধের নয় এমন ৪টি সমাধিও রয়েছে। এখানে যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, পূর্ব আফ্রিকা, পশ্চিম আফ্রিকা, বার্মা (মিয়ানমার), নেদারল্যান্ডস, জাপান এবং অবিভক্ত ভারতের সৈন্যদের সমাধি রয়েছে। অবিভক্ত ভারতের ২১৪ জনের সমাধির মধ্যে ১০ জনের বেশি রয়েছেন যারা বর্তমান বাংলাদেশের অধিবাসী। এসকল ব্যক্তিরা ১৯৩৯ থেকে ১৯৪৫ পর্যন্ত অক্ষশক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধে তাদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।
