মূল সংবাদে যান
জাতীয়

চট্টগ্রামের দৃশ্যপট বদলাতে আসছে বাঁধ–কাম সড়ক: জলাবদ্ধতা শেষ, ফিরছে অর্থনীতির গতি

চট্টগ্রাম নগরের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)।

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল
চট্টগ্রামের দৃশ্যপট বদলাতে আসছে বাঁধ–কাম সড়ক: জলাবদ্ধতা শেষ, ফিরছে অর্থনীতির গতি

কর্ণফুলী নদীর তীর ঘেঁষে নয় কিলোমিটার দীর্ঘ চাক্তাই–কালুরঘাট বাঁধ–কাম সড়ক প্রকল্প এখন শেষ পর্যায়ে। ২০২৬ সালের জুনেই পুরো কাজ শেষ হলে বদলে যাবে চট্টগ্রামের নগর দৃশ্যপট, উন্নত হবে যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক প্রবাহ।

জলাবদ্ধতা নিরসন ও বন্যা সুরক্ষা : বর্ষাকালে নালা–খালের উপচে পড়া পানি সরাসরি কর্ণফুলীতে প্রবাহিত হবে, ফলে নিম্নাঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা অনেকটাই কমে যাবে। চাক্তাই–খাতুনগঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাজার এলাকা জোয়ার–বৃষ্টি থেকে সুরক্ষিত থাকবে। প্রকল্পে নির্মিত ১২টি স্লুইস গেট বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

অর্থনীতিতে নতুন গতি : ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, এই সড়ক নির্মাণ শুধু জলাবদ্ধতা নিরসনই নয়, বরং বাণিজ্যিক পরিবহন সহজ করবে। সম্পূর্ণ হলে মাত্র ১০ মিনিটেই কালুরঘাট থেকে চাক্তাই যাতায়াত সম্ভব হবে। এতে পরিবহন খরচ ও সময় দুই–ই কমবে।

প্রকল্পের অগ্রগতি : ইতোমধ্যে ৮২ শতাংশ কাজ শেষ। ৮ কিলোমিটার চার লেনের সড়কের কার্পেটিং শেষ হয়েছে; বাকি আধা কিলোমিটার করে দুই প্রান্ত—শাহ আমানত সেতু অংশ ও কালুরঘাট সেতু অংশ—দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। শুরুতে ভূমি অধিগ্রহণ ও অর্থ জটিলতায় কাজ বিলম্বিত হলেও বর্তমানে কোনো অর্থ–সংকট নেই।

গুণগত মানে কঠোর নজরদারি : প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী রাজীব দাশ জানান, সড়কটি টেকসই করতে প্রতি ৮ ইঞ্চি বালুর স্তর কমপ্যাকশন করে ভরাট করা হচ্ছে। এতে সময় বেশি লাগলেও ভিত্তি মজবুত হবে এবং ভবিষ্যতে দেবে যাওয়ার ঝুঁকি কমবে।

একনজরে প্রকল্পের বৈশিষ্ট্য - দৈর্ঘ্য: ৯ কিমি উচ্চতা: সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২৪ ফুট প্রস্থ: ৮০ ফুট (চার লেন) স্লুইস গেট: ১২টি শুরুর অনুমোদন: একনেক, ২৫ এপ্রিল ২০১৭ বর্তমান ব্যয়: ২৭৭৯ কোটি ৩৯ লাখ টাকা সময়সীমা: জুন ২০২৬ (প্রথম নির্ধারণ ছিল ২০২১)

নগরবাসীর বিনোদন কেন্দ্র : ইতোমধ্যে বাঁধ–কাম সড়কের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিন ভিড় জমাচ্ছেন নগরবাসী ও পর্যটকরা। সড়কের এক পাশে কর্ণফুলীর মনোরম দৃশ্য, অন্য পাশে শহরের ব্যস্ত জীবন—দুটো মিলিয়ে নতুন এক বিনোদন স্পট গড়ে উঠছে।

স্থানীয় বাসিন্দা কামাল পারভেজ বলেন, "সারিসারি গাছ আর আরসিসি ব্লক বসানো অংশে বসে কর্ণফুলীর সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। পুরো কাজ শেষ হলে এই জায়গা হবে চট্টগ্রামের অন্যতম আকর্ষণ।"

পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি : প্রকল্প সম্পন্ন হলে চট্টগ্রাম শুধু জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত হবে না, বরং একটি টেকসই বাঁধ–সড়ক পাবে যা বাণিজ্য, যোগাযোগ ও নগর সৌন্দর্যে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে।

সম্পর্কিত বিষয়

  • জলাবদ্ধতা
  • কর্ণফুলী
  • চাক্তাই
  • সিডিএ

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল

আমাদের বাংলা-এ প্রকাশিত সংবাদ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন