সোমবার (৪ আগষ্ট) দুপুরে চট্টগ্রাম ক্লাবের আবাসিক কক্ষ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রাতে তিনি কক্ষটিতে ছিলেন। সকালে কোনো সাড়াশব্দ না পাওয়ায় কক্ষটি খুলে অচেতন অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়।
এম হারুন-অর-রশীদ ১৯৪৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি চট্টগ্রামের হাটহাজারীর বাসিন্দা। তবে তিনি ঢাকায় বসবাস করতেন। মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য তিনি বীর প্রতীক উপাধিতে ভূষিত হন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম ক্লাবের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আশরাফ উদ্দিন বলেন, সাবেক সেনাপ্রধান এম হারুন-অর-রশীদ ক্লাবের গেস্টহাউসের একটি কক্ষে একা ছিলেন। সোমবার অনেক বেলা পর্যন্ত তিনি কক্ষ থেকে বের না হওয়ায় ক্লাবের লোকজন বিচলিত হয়ে পড়েন। দুপুর ১২টার পর পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতে কক্ষের তালা খুলে অচেতন অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়। চিকিৎসকদের ধারণা কক্ষের মধ্যে রাতে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
সিএমপি কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল করিম বলেন, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল চট্টগ্রামের চিকিৎসকদের একটি দল চট্টগ্রাম ক্লাবে এসে সাবেক সেনাপ্রধানের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। পরে তাঁরা সাবেক সেনাপ্রধানকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে এটি স্বাভাবিক মৃত্যু বলে জানিয়েছেন তাঁরা।
সিএমপি কোতোয়ালী জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) মাহফুজুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে আমরা চট্টগ্রাম ক্লাবে এসে মরদেহ উদ্ধার করেছি। মরদেহ এখনো চট্টগ্রাম ক্লাবে রয়েছে। পরিবারের জন্য অপেক্ষা করছি। পরিবারের সদস্যরা এলে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হবে।
উল্লেখ্য, এম হারুন অর রশিদ ২০০০ সালের ২৪ ডিসেম্বর সেনাপ্রধান হন এবং ২০০২ সালের ১৬ জুন তিনি অবসরে যান। চাকরি থেকে অবসরের পর হারুন অর রশিদ ডেসটিনি গ্রুপের সভাপতি হন। গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ ও অর্থ পাচারের মামলায় সাবেক এই সেনাপ্রধানকে কারাগারে যেতে হয়।
