শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে প্রেসক্লাব ভবনে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিএমইউজে)-এর নতুন কার্যালয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন|
ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, অতীতে ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে সংবাদ প্রকাশে নানা ধরনের বাধা, চাপ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটেছে| সাংবাদিকদের ¯^াধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া হয়নি| বর্তমান সরকার সে ধরনের কোনো নীতি অনুসরণ করছে না এবং গণমাধ্যমের ওপর কোনো চাপ প্রয়োগের মানসিকতাও নেই| প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেছেন, গণমাধ্যম তার নিজ¯^ গতিতে চলবে| সাংবাদিকরা পূর্ণ ¯^াধীনতা নিয়ে কাজ করবেন| তবে অপতথ্য ও অসত্য তথ্য যাতে সংবাদে স্থান না পায়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে|
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে ভুয়া ছবি, ভিডিও ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে| তবে প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহারও রয়েছে| বস্তুনিষ্ঠ ও যাচাইকৃত সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়বে বলে তিনি মন্তব্য করেন|
সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় বিএনপি সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সারাদেশের সাংবাদিকদের আবাসন, বকেয়া বেতন এবং পেশাগত নিরাপত্তার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে| সম্পাদক পরিষদের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের বকেয়া পাওনা পরিশোধের দাবি জানানো হয়েছে এবং সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে| সাংবাদিকদের কাছ থেকে প্রায়ই বেতন বকেয়া থাকার অভিযোগ পাই| গণমাধ্যম মালিকদের প্রতিও আহ্বান থাকবে, যেন সাংবাদিকরা প্রতি মাসে সময়মতো তাদের প্রাপ্য বেতন পান|
অনুষ্ঠানে উদ্বোধকের বক্তব্যে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, সরকার যৌক্তিক সমালোচনাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করছে| গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিচালনায় গণমাধ্যমের গঠনমূলক সমালোচনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে| এর মাধ্যমে সরকারের ভুল-ত্রুটি চিহ্নিত করে সংশোধনের সুযোগ ˆতরি হয়| দীর্ঘদিন ধরে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে যারা সাংবাদিকতা পেশাকে সমৃদ্ধ করেছেন, তাদের একটি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনার উদ্যোগ প্রয়োজন|
সিএমইউজে সভাপতি মোহাম্মদ শাহনওয়াজ-এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমান-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আবু সুফিয়ান, ওবায়দুর রহমান শাহীন, এম এ মালেক, জাহিদুল করিম কচি, ওসমান গনি মনসুর এবং অন্যান্য অতিথিরা|
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাংবাদিকরা আবাসন সংকট, বেকার সাংবাদিকদের কর্মসংস্থান, ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন এবং গণমাধ্যম খাতের আর্থিক সংকটের বিষয়গুলো তুলে ধরেন| তারা সাংবাদিকদের সামাজিক নিরাপত্তা ও পেশাগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন|
