রবিবার সকালে নগরীর জামালখান লিচুতলা এলাকায় ‘নগরীর খাল-নালা পরিষ্কারে বিশেষ কার্যক্রম’-এর উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন|
মেয়র বলেন, “সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণ নিয়ে আমি শনিবার মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি| আমি স্পষ্টভাবে জানিয়েছি—এখানে গাছ কেটে কোনো হাসপাতাল বা স্থাপনা আমরা করতে দেব না| চট্টগ্রামবাসীও এটি কখনো মেনে নেবে না|”
তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীও এ বিষয়ে তার সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন| পুরোনো হাসপাতালের অবকাঠামো পুনর্বিন্যাস করে আধুনিকায়নের বিষয়ে সরকার চিন্তা করতে পারে| “যদি প্রয়োজন হয়, বিদ্যমান কাঠামো ভেঙে নতুনভাবে হাসপাতাল করা যেতে পারে|
রেলওয়ের তথ্যমতে, ২০২১ সালে সিআরবির প্রায় ছয় একর জমিতে ৫০০ শয্যার একটি হাসপাতাল ও ১০০ আসনের মেডিকেল কলেজ স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়| পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলে ইউনাইটেড গ্রুপের অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের চুক্তিও হয়েছিল, যেখানে ৫০ বছর পর স্থাপনাটি রেলওয়ের কাছে হস্তান্তরের কথা ছিল|
তবে শুরু থেকেই পরিবেশবাদী সংগঠন, সংস্কৃতিকর্মী ও নাগরিক সমাজ এই প্রকল্পের বিরোধিতা করে আসছে| তাদের দাবি, সিআরবির পরিবেশ ও ঐতিহ্য রক্ষায় প্রকল্পটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হোক| দীর্ঘ আন্দোলনের মুখে ২০২২ সালে প্রকল্পটি স্থগিত করা হয় এবং একই বছরের অক্টোবরে সংসদীয় স্থায়ী কমিটিও এ স্থানে হাসপাতাল নির্মাণের বিপক্ষে মত দেয়|
বিশেষজ্ঞদের মতে, সিআরবি একটি প্রাকৃতিক সবুজ অঞ্চল হিসেবে নগরের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে| ২০২১ সালের এক গবেষণায় সেখানে ২২৩ প্রজাতির উদ্ভিদের উপস্থিতি পাওয়া যায়, যার মধ্যে বিপন্ন ও বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতিও রয়েছে| এ কারণে অনেকেই সিআরবিকে ‘প্রাকৃতিক হাসপাতাল’ হিসেবে আখ্যায়িত করে থাকেন|
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সিআরবি এলাকাকে ‘কালচারাল হেরিটেজ’ হিসেবে ঘোষণা করে, যা ২০০৯ সালে গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়| ড্যাপ অনুযায়ী, এ এলাকায় বাণিজ্যিক বা বহুতল স্থাপনা নির্মাণের অনুমোদন নেই|
