জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সময় পৃথিবী সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে অবস্থান নেয়। ফলে সূর্যের সরাসরি আলো চাঁদের ওপর পৌঁছাতে পারে না। বিরল এই মহাজাগতিক দৃশ্য ঘিরে জ্যোতির্বিজ্ঞানপ্রেমীদের মধ্যে ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ।
তবে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ভেদ করে সূর্যের আলোর একটি অংশ প্রতিসারিত হয়ে চাঁদের পৃষ্ঠে পড়ে। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল নীল রঙের ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি বিচ্ছুরিত করে এবং লাল রঙের দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যকে অগ্রসর হতে দেয়। এ কারণেই গ্রহণ চলাকালে চাঁদ তামাটে বা লালচে দেখায়।
নাসা জানিয়েছে, সূর্যাস্ত বা সূর্যোদয়ের সময় আকাশ লাল দেখানোর পেছনেও একই বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া কাজ করে। চন্দ্রগ্রহণের সময় সেই প্রতিসরণের ফলেই চাঁদে লাল আভা তৈরি হয়।
২০২৬ সালের এই পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ বিশ্বের একটি বড় অংশ থেকে দেখা যাবে। এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, উত্তর আমেরিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অঞ্চলে ১২ থেকে ১৩ মিনিট স্থায়ী হবে পূর্ণগ্রাস পর্যায়। সর্বোচ্চ গ্রহণ দেখা যাবে সন্ধ্যা ৫টা ৩৩ মিনিটে। উত্তর ও মধ্য আমেরিকায় ভোরবেলা এটি সবচেয়ে ভালো দেখা যাবে। পূর্ব এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়াজুড়ে সন্ধ্যায় লালচে চাঁদের দৃশ্য উপভোগ করা যাবে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, সূর্যগ্রহণের মতো চন্দ্রগ্রহণ দেখার জন্য চোখের বিশেষ সুরক্ষার প্রয়োজন হয় না। খালি চোখেই এটি নিরাপদভাবে দেখা যায়। তবে বাইনোকুলার বা টেলিস্কোপ ব্যবহার করলে চাঁদের পৃষ্ঠের পরিবর্তন আরও স্পষ্টভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। শহরের আলোক দূষণ থেকে দূরে গেলে ব্লাড মুনের লাল আভা সবচেয়ে পরিষ্কার দেখা যাবে।
পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ সাধারণত তিনটি প্রধান ধাপে সম্পন্ন হয়। প্রথমে পেনামব্রাল পর্যায়ে চাঁদ পৃথিবীর হালকা ছায়ায় প্রবেশ করে, এতে উজ্জ্বলতা কিছুটা কমে যায়। এরপর শুরু হয় আংশিক গ্রহণ, যখন চাঁদ পৃথিবীর মূল অন্ধকার ছায়ায় ঢুকতে থাকে। সর্বশেষ পূর্ণগ্রাস বা টোটালিটি পর্যায়ে চাঁদ সম্পূর্ণভাবে পৃথিবীর ছায়ায় আচ্ছন্ন হয় এবং ধারণ করে লালচে রং।
