তা নাহলে পড়তে হচ্ছে অসুস্থতায়, আর তাতেই শুরু ডাক্তারের পরামর্শে বিভিন্ন পরীক্ষা। কারণ চট্টগ্রাম নগরে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
নগরবাসীর অভিযোগ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) অবহেলাই এই সংকটের মূল কারণ। যদিও সংস্থাটি ১০০ দিনের বিশেষ মশকনিধন কর্মসূচি চালু করেছে, কার্যত তার সুফল পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন গাফিলতির কথা স্বীকার করে বলেছেন, “অনেক ওয়ার্ডে মশকনিধনের কার্যক্রম এখন অনেকটাই কমে গেছে। আগ্রাবাদে গিয়ে দেখলাম, যতক্ষণ আমি ছিলাম ততক্ষণ স্প্রে করা হয়েছে, পরে কাজ বন্ধ।”
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৯০৪ জন, মারা গেছেন ১৭ জন। এর মধ্যে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৪৫৯ জন। গত বছরের একই সময়ে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল মাত্র ৪০০ জন, মৃত্যু হয়েছিল দুজনের।
এদিকে এবার প্রথমবারের মতো চিকুনগুনিয়ার হিসাব রাখা হচ্ছে। গতকাল পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ২২১ জন। হাজারো চেষ্টার পরও বয়স্ক থেকে শিশু কাউকে মশার কামড় থেকে রক্ষা করতে না পারায় আতঙ্ক কাটছে না কিছুতেই। মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়েছেন এমন ব্যাক্তিদের নিয়েও সংকটে আছেন অনেকেই।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জনবল ঘাটতি, বাজেট স্বল্পতা ও ওষুধের অভাব—এই তিন সংকটের কারণে মশকনিধন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। হিসেব অনুযায়ী ৪৫০ কর্মীর স্থলে আছে মাত্র ২৭০ জন। বছরে প্রয়োজন ৬০ থেকে ৬৫ হাজার লিটার ওষুধ, কেনা হয় মাত্র ২৫ থেকে ৩০ হাজার লিটার। বাজেটে বরাদ্দ রাখা হলেও বাস্তবে মেলে এক-তৃতীয়াংশ।
মশা নিয়ন্ত্রণ ও ওষুধের কার্যকারিতা পরীক্ষার জন্য সিটি করপোরেশন গঠিত গবেষক দলের সদস্যসচিব চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ওমর ফারুক মনে করেন, আগের সুপারিশ বাস্তবায়ন না হওয়ায় সংকট আরও বেড়েছে। তাঁর মতে, প্রযুক্তির ব্যবহার ও গণসচেতনতা বাড়ানো ছাড়া এডিস মশার প্রজনন নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।
নগরবাসীর প্রত্যাশা, সিটি করপোরেশন দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেবে। নইলে ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়ার এই প্রকোপ আরও দীর্ঘায়িত হবে। জনদুর্ভোগ বাড়বে দিনের পর দিন। কয়েল জ্বালিয়ে, মশারি টানিয়ে মশার কামড় থেকে রক্ষার চেষ্টা করেও কোন সুফল মিলছে না। একপ্রকার ‘ঘুম’ কেড়ে নিয়েছে ছোট্ট প্রাণী মশা।
এই দুর্ভোগের জন্য চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের অবহেলা ও গাফিলতি দায়ী। তাঁদের মতে, সিটি করপোরেশনের অন্যতম কাজই হচ্ছে মশা মারা। এই কাজে করপোরেশনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখছেন না তাঁরা। সিটি করপোরেশন যদি ঠিকভাবে মশা মারার কাজ করত, তাহলে এই পরিস্থিতি হতো না।
